“Last seen 5 minutes ago” – এই লেখাটা দেখতেই আমার রাগে মাথা গরম হয়ে গেল। সাইফুল এই মাত্র অনলাইন ছিল, আমার মেসেজ দেখেও জবাব দিল না।
আমি তাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছি – অফিসের একটা প্রোজেক্টের ব্যাপারে। আর ও দেখেও না দেখার ভান করছে। এটা কি ঠিক?
হ্যাপি বলল, “কী ব্যাপার, মুখটা এমন করে রেখেছ কেন?” আমি বললাম, “সাইফুল অনলাইন আছে কিন্তু আমার মেসেজের উত্তর দিচ্ছে না।” হ্যাপি হাসল, “হয়তো ব্যস্ত আছে।”
ব্যস্ত? ৫ মিনিট আগে অনলাইন ছিল মানে তো ফোন হাতেই ছিল। তাহলে আমার মেসেজটা দেখেনি কেন? নাকি দেখেছে কিন্তু উত্তর দিতে চায়নি?
আমি আবার তার প্রোফাইল চেক করলাম। “Last seen 7 minutes ago”। মানে আরো ২ মিনিট বেড়েছে। কিন্তু এই সময়টা আমার কাছে অনেক বেশি মনে হচ্ছে।
মনে পড়ে গেল, ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে কথা বলার জন্য তাদের বাসায় গিয়ে দাঁড়াতে হত। না থাকলে পরে আসতাম। কিন্তু কখনো এই চিন্তা আসত না যে ও আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে।
আর এখন? এখন আমি জানি সাইফুল কখন ফোন খুলেছে, কখন বন্ধ করেছে, কোন অ্যাপ ব্যবহার করেছে। এই জানাটা আমাকে একটা অধিকার দিয়েছে – জবাবদিহি চাওয়ার অধিকার।
কিন্তু এই অধিকার কি ন্যায্য?
আরাশ এসে বলল, “বাবা, তুমি সাইফুল মামাকে ফোন করে দেখ না কেমন আছে।” আমি বললাম, “না, ও অনলাইন ছিল।” আরাশ বুঝল না কেন অনলাইন থাকলে ফোন করা যাবে না।
আমি নিজেও বুঝি না আসলে। আমি কেন মনে করছি যে ও অনলাইন থাকলে অবশ্যই আমার মেসেজের জবাব দিতে হবে? ওর নিজের জীবন নেই? ওর নিজের সমস্যা নেই?
নাকি আমি এমন একটা যুগে বাস করছি যেখানে প্রতিটা মানুষ ২৪ ঘন্টা সবার কাছে available থাকতে বাধ্য? যেখানে নিজের সময় বলে কিছু নেই?
সন্ধ্যেয় সাইফুল ফোন করল। “ভাই, আজ অফিসে খুব কাজের চাপ ছিল। ফোন দেখার সময়ই পাইনি।” আমার রাগটা কমে গেল। কিন্তু প্রশ্ন থেকে গেল – আমি কেন তার কাছ থেকে এই ব্যাখ্যা চেয়েছি?
রাতে ভাবলাম, এই “লাস্ট সিন” ফিচারটা আমাদের সম্পর্কগুলোকে কতটা জটিল করে তুলেছে। আগে যোগাযোগ ছিল ইচ্ছার ব্যাপার। এখন হয়ে গেছে বাধ্যবাধকতার।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল – আমি কি সাইফুলের বন্ধু, নাকি তার ডিজিটাল প্রভু?
একটু ভাবনা রেখে যান