স্বপ্নে দেখি আমি একটি পাখি। উড়ছি মেঘের ওপর দিয়ে। নিচে দেখি একটি শহর। সেই শহরে একটি ছেলে দৌড়াচ্ছে। সেই ছেলেটি কি আমি? নাকি আমি সেই পাখি?
ঘুম ভাঙলে ভাবি – এই স্বপ্নটি কী? অতীত জীবনের স্মৃতি নাকি আগামী জীবনের পূর্বাভাস?
আরাশ মাঝে মাঝে এমন কথা বলে যা তার বয়সের নয়। গতকাল বলল, “বাবা, আমার মনে হয় আগে আমি একটা বুড়ো মানুষ ছিলাম।”
“কেন মনে হয়?”
“কারণ অনেক কিছু আমি আগে থেকেই জানি।”
শিশুদের এই intuitive জ্ঞান কি পুনর্জন্মের প্রমাণ?
নাকি শুধুই কল্পনা?
প্রতিদিন সকালে জেগে উঠে ভাবি – আমি কে? এই ‘আমি’টুকু কোথা থেকে এলো? কোথায় যাবে?
শরীর তো প্রতিদিন পালটায়। সাত বছরে সব কোশ বদলে যায়। তাহলে আমার identity কোথায়?
হয়তো আত্মায়। যা শরীর বদলায় কিন্তু থেকে যায়।
বাবার মৃত্যুর পর মনে হতো তিনি কোথাও আছেন। এই মনে হওয়াটা কি আবেগ নাকি সত্যি?
কখনো কখনো আরাশের মধ্যে বাবার ছায়া দেখি। তার হাসির ধরন, রাগের ভঙ্গি।
এটা কি genes এর কারণে নাকি আত্মার পুনর্জন্ম?
হিন্দু শাস্ত্রে বলে কর্মফল অনুযায়ী পুনর্জন্ম। ইসলামে বলে একবারই জন্ম, তারপর বিচার।
কোনটা সত্যি?
নাকি দুটোই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একই সত্যের ব্যাখ্যা?
মৃত্যুর পর যদি আমি আবার জন্ম নিই, তাহলে কে হব?
একটি পিঁপড়া? একটি গাছ? আরেক মানুষ?
আমার এই জীবনের কর্ম অনুযায়ী কি আমার পরবর্তী জীবন নির্ধারিত হবে?
তাহলে আমি কি এখনো আমার অতীত জীবনের ফল ভোগ করছি?
আমার সব দুঃখ-কষ্ট কি আগের জন্মের পাপের ফল?
নাকি এই জীবনের শিক্ষা?
কিন্তু যদি পুনর্জন্ম না থাকে? যদি এই জীবনটাই শেষ?
তাহলে প্রতিটি মুহূর্ত আরও মূল্যবান। প্রতিটি ভুলের দাম আরও বেশি।
রাতে তারার দিকে তাকিয়ে ভাবি – ওই তারাগুলোর আলো লক্ষ বছর আগের। আমি দেখছি অতীত।
আমার আত্মাও কি এভাবে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে?
হয়তো এই মুহূর্তে আমি একইসাথে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে বিরাজমান।
হয়তো আমার পূর্ববর্তী জন্ম আর পরবর্তী জন্ম – সব একসাথে ঘটছে।
সময় হয়তো একটি বৃত্ত, সরলরেখা নয়।
আমি ছোটবেলায় একটি স্থানে গিয়ে অদ্ভুত পরিচিত লেগেছিল। মনে হয়েছিল আগে এসেছি।
এটা কি déjà vu নাকি পুনর্জন্মের স্মৃতি?
বিজ্ঞান বলে déjà vu মস্তিষ্কের একটি ভুল।
কিন্তু বিজ্ঞান কি সব ব্যাখ্যা করতে পারে?
চেতনা কী? আত্মা কী? এগুলো কি শুধু biochemical reaction?
নাকি কিছু রহস্য আছে যা আমরা এখনো বুঝি না?
পুনর্জন্ম সত্যি হোক বা না হোক, এই বিশ্বাস আমাকে একটা শান্তি দেয়।
মৃত্যু তাহলে শেষ নয়, নতুন শুরু।
আমার ভুল-ত্রুটি পরবর্তী জন্মে সংশোধনের সুযোগ পাবে।
আমি হ্যাপি-আরাশের সাথে হয়তো আবার দেখা হবে অন্য রূপে।
এই চিন্তায় মৃত্যুভয় কমে যায়।
কিন্তু দায়িত্ববোধ বাড়ে। কারণ আমার এই জীবনের প্রতিটি কাজ পরবর্তী জন্মে প্রভাব ফেলবে।
তাই আমি চেষ্টা করি ভালো কাজ করতে। মানুষের উপকার করতে।
পুনর্জন্ম থাকুক বা না থাকুক, ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টায় কোনো ক্ষতি নেই।
হয়তো এটাই পুনর্জন্মের আসল উদ্দেশ্য – আমাদের ভালো করে তোলা।
জীবনকে একটি অন্তহীন যাত্রা ভাবতে শেখানো।
যেখানে মৃত্যু বিরাম চিহ্ন, পূর্ণবিরাম নয়।
একটু ভাবনা রেখে যান