ছবি ১: জন্মের তিন দিন পর
আরাশের মুখ কুঁচকানো। চোখ বন্ধ। শুধু কান্না আর ঘুম। হ্যাপি বলে, “কখন হাসবে?” আমি বলি, “এখনো gas pain হচ্ছে। হাসি আসেনি।”
ছবি ২: দুই সপ্তাহ
ডাক্তার বলেন, “এখনো যে হাসি দেখছেন, সেগুলো রিফ্লেক্স। আসল হাসি আসবে ছয় থেকে আট সপ্তাহে।” আমি হতাশ হই। আরাশ কি আমাদের দেখে খুশি হয় না?
ছবি ৩: চার সপ্তাহ
আরাশ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখে একধরনের জিজ্ঞাসা। আমি তার সাথে কথা বলি। সে শুধু তাকায়। কিন্তু সেই তাকানোতে একটা যোগাযোগ আছে।
ছবি ৪: ছয় সপ্তাহের এক দিন – সকাল
আরাশ কাঁদছে। আমি তাকে কোলে নিই। “হুশ, হুশ” বলি। সে থামে। আমার মুখের দিকে তাকায়। আমি হাসি। সেও… না। শুধু তাকিয়ে থাকে।
ছবি ৫: একই দিন – বিকাল
হ্যাপি তার গাল টিপে দিচ্ছে। আরাশ অস্বস্তি বোধ করছে। মুখ কুঁচকে ফেলেছে। আমরা হতাশ। কবে হাসবে?
ছবি ৬: একই দিন – রাত
আমি একা আরাশের সাথে। সবাই ঘুমিয়ে। আমি তার পাশে বসে গুনগুন করে গান গাইছি। “চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে…” হঠাৎ আরাশের মুখে একটা পরিবর্তন।
ছবি ৭: সেই মুহূর্ত – ৯:৪৫ PM
প্রথম হাসি।
তার ঠোঁটের কোণ উঠে গেল। চোখ দুটো চিকচিক করে উঠল। পুরো মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল। একটা আনন্দের আলো ছড়িয়ে গেল সারা মুখে।
আমি হাঁ হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
ছবি ৮: আমার প্রতিক্রিয়া
“হ্যাপি! হ্যাপি! তাড়াতাড়ি এসো! আরাশ হেসেছে!” আমি চিৎকার করলাম। হ্যাপি দৌড়ে এলো। কিন্তু ততক্ষণে আরাশ আবার সিরিয়াস হয়ে গেছে।
ছবি ৯: হ্যাপির সন্দেহ
“সত্যি? তুমি ভুল দেখনি তো?” হ্যাপি আরাশের মুখের দিকে তাকায়। আরাশ তার দিকে তাকিয়ে আবার হাসে! এবার আমরা দুজনেই দেখলাম।
ছবি ১০: দ্বিতীয় হাসি
এবার আরও স্পষ্ট। পুরো মুখ হেসে উঠেছে। চোখ দুটো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে হাসতে হাসতে। এক ধরনের pure joy ছড়িয়ে আছে তার মুখে।
ছবি ১১: আমাদের প্রতিক্রিয়া
আমরা দুজনেই কাঁদছি। খুশিতে। আরাশ আমাদের চিনতে পেরেছে। আমাদের দেখে খুশি হয়েছে। এর চেয়ে বড় পুরস্কার কী আছে?
ছবি ১২: সেই রাতের বাকি সময়
আরাশ আরও কয়েকবার হেসেছে। প্রতিবার আমরা নতুন করে অভিভূত হয়েছি। জীবনে এত আনন্দ আগে পাইনি।
ছবি ১৩: পরদিন সকাল
আরাশকে দেখেই আমি হাসি। সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসে। একটা যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এখন আমরা দুজনেই জানি – সে আমাদের চেনে।
ছবি ১৪: বিশ্লেষণ
প্রথম হাসি মানে কী? বিজ্ঞান বলে এটা সামাজিক বিকাশের শুরু। কিন্তু আমার মনে হয় এটা আত্মার প্রথম প্রকাশ। আরাশ বুঝতে পেরেছে যে সে ভালোবাসা পাচ্ছে।
ছবি ১৫: আজ, এগারো বছর পর
আরাশের হাসি এখন অন্যরকম। কিন্তু সেই প্রথম হাসির স্মৃতি আজও তাজা। সেদিন আমি জানতে পেরেছিলাম – আনন্দ কী জিনিস।
ছবি ১৬: উপলব্ধি
একটা শিশুর প্রথম হাসি তার জীবনের প্রথম উপহার। পিতা-মাতার কাছে। এই হাসি বলে – “আমি তোমাদের ভালোবাসি। আমি খুশি যে তোমরা আমার পাশে আছ।”
এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে?
একটু ভাবনা রেখে যান