ব্লগ

A+ এর বোঝা

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আরাশ তার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে দৌড়ে এসেছে। সব বিষয়ে A+।

“বাবা, দেখ! আমি ফার্স্ট হয়েছি!”

আমার বুকটা গর্বে ভরে যায়। আমার ছেলে!

হ্যাপি খুশিতে আরাশকে জড়িয়ে ধরে। আমিও।

আমরা তার প্রিয় খাবার রান্না করি। পুরো বাড়িতে উৎসবের আমেজ।

কিন্তু রাতে শুয়ে আমার মাথায় অন্য চিন্তা আসে।

আরাশ এত ভালো ফলাফল করেছে। এখন তার প্রত্যাশা বাড়বে। আমার দায়িত্বও বাড়বে।

এই মেধা নিয়ে আরাশ কী করবে? মেডিকেলে ভর্তি হতে চাইবে? ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চাইবে?

দুটোর জন্যই দরকার প্রাইভেট পড়াশোনা। কোচিং। অনেক টাকা।

আমার হাতে সেই টাকা আছে?

আরাশের বন্ধু রিহানও ভালো ফলাফল করেছে। তার বাবা তাকে ঢাকার নামী কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।

আমি আরাশকে কী দেব?

আমার গর্ব হঠাৎ চিন্তায় পরিণত হয়।

আরাশের মেধা আছে। কিন্তু আমার আর্থিক সামর্থ্য নেই সেই মেধা বিকশিত করার।

এটা কি আরাশের সাথে অন্যায় নয়?

আমি ভাবি, আরাশ যদি গরিব পরিবারে জন্ম না নিত? যদি তার বাবা একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হত?

তাহলে এই ফলাফল নিয়ে আমাদের চিন্তা থাকত না। উৎসব থাকত।

কিন্তু এখন এই ভালো ফলাফল আমার কাছে একটা প্রেশার।

পরদিন আরাশ বলে, “বাবা, আমি ডাক্তার হতে চাই।”

আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

ডাক্তার হতে গেলে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হবে। সেজন্য চাই অনেক প্রস্তুতি। অনেক টাকা।

“ডাক্তার হওয়া খুব কঠিন আরাশ।”

“কিন্তু বাবা, আমি তো ভালো ফলাফল করেছি।”

আরাশ ঠিক বলেছে। তার মেধা আছে। কিন্তু মেধা যথেষ্ট নয়।

আমি কীভাবে বলব যে তার বাবার সামর্থ্য নেই?

আমি কীভাবে বলব যে তার স্বপ্ন পূরণ হতে নাও পারে?

আমার নিজেকে অক্ষম লাগে।

আরাশের A+ দেখে অন্য সবাই বলবে, “কী মেধাবী ছেলে।”

কিন্তু আমি জানি, মেধা দিয়ে সব হয় না।

চাই টাকা। চাই সুযোগ।

আর আমার কাছে দুটোই নেই।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

ব্লগ

আয়না

নভেম্বর ২০২৫ · 6 মিনিটে পড়া

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *