
ফাঁদ
“আমি আছি” — এই কথাটা কে বলছে? যদি তুমি বলছ, তাহলে তুমি আছ। কিন্তু যদি না থাকো — তাহলে কে বলছে?
ফোন
রাতে বন্ধু ফোন করল।
বলল — আমি নেই।
হাসলাম। বললাম — তাহলে কে বলছে?
সে বলল — এটাই সমস্যা।
চুপ হয়ে গেলাম।
রাতে ঘুম এল না।
স্কুলে
শিক্ষক বললেন — পৃথিবী গোল।
হাত তুললাম — কীভাবে জানেন?
বললেন — বইয়ে লেখা।
বললাম — বই কে লিখল?
রেগে গেলেন — বসো।
বসলাম। কিন্তু প্রশ্ন গেল না।
সব কিছুর পেছনে আরেক প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের পেছনে আরেকটা। শেষ নেই।
জ্বর
জ্বরে রাতে কোণায় কেউ দাঁড়িয়ে।
চিৎকার করলাম।
কেউ এল। বলল — কেউ নেই। জ্বরে দেখছিস।
কিন্তু আমি দেখেছিলাম। স্পষ্ট।
কোনটা সত্যি? আমার দেখা, নাকি তার কথা?
স্পর্শের প্রমাণ
জিজ্ঞেস করলাম — তুমি সত্যি আছ?
হাসল। বলল — পাগল হয়ে গেছ?
বললাম — না। সিরিয়াস। প্রমাণ কী?
হাত ধরল। বলল — এই যে। এটা না?
বললাম — এই স্পর্শ তো আমার অনুভূতি। তুমি আছ নাকি আমি অনুভব করছি — দুটো আলাদা কথা।
চুপ।
তারপর বলল — মাথা খারাপ হবে।
হয়তো।
স্বপ্নে উড়া
একটা ছেলে বলল — রাতে স্বপ্নে উড়ছিলাম। মজা লাগছিল। ঘুম ভাঙল, উড়তে পারলাম না।
থামল। তারপর বলল — কিন্তু স্বপ্নে তো সত্যিই উড়ছিলাম। তাহলে মিথ্যা কেন?
উত্তর দিতে পারলাম না।
স্বপ্নে যখন উড়ছিল, তখন সত্যি ছিল। জেগে উঠে মিথ্যা হলো।
তাহলে এখন? এখনো কি স্বপ্ন? জেগে উঠলে মিথ্যা হবে?
থাকা আর আছি
বন্ধু বলল — আছি। মনে হচ্ছে।
বললাম — থাকলে তো আছিস।
সে বলল — থাকা আর আছি — এক?
চুপ।
কতটুকু কাটলে শেষ
আয়নায় তাকালাম।
এই মুখ কি আমি? নাকি আমার মুখ?
মুখ কেটে ফেললে আমি থাকব?
হাত কেটে ফেললে? পা?
কতটুকু কাটলে “আমি” শেষ হয়?
নাকি শরীর পুরো শেষ হলেও থাকব?
ফাঁদ
“আমি নেই” — এই কথাটাও মিথ্যা।
কারণ যে নেই, সে কীভাবে বলবে সে নেই?
কথা ফাঁদ। চিন্তা ফাঁদ। প্রশ্ন ফাঁদ। উত্তর ফাঁদ।
বেরোনোর পথ নেই।
শেষ রাত
রাতে শুয়ে পড়লাম।
চোখ বন্ধ।
আমি কি আছি?
উত্তর এল না।
ঘুম এল।
কিন্তু ঘুমানোর আগে শেষ যে চিন্তাটা এল —
কে ঘুমাচ্ছে?

একটু ভাবনা রেখে যান