
মালিক
তুমি ভাবো তুমি চিন্তা করছ। আসলে চিন্তা তোমাকে করছে।
থামো
চোখ বন্ধ করলাম।
চিন্তা আসছে। যাচ্ছে। আসছে।
বললাম — থামো।
থামল না।
আমি মালিক?
মন কারও শোনে না
ক্লাসে বসে আছি। শিক্ষক বলছেন। মন জানালায়।
শিক্ষক বললেন — কোথায় মন?
জানি না। মন আমার কথা শোনে না। সে যেখানে খুশি যায়।
একদিন ছেলেকে বললাম — মন দাও।
সে বলল — মন শোনে না।
ঠিকই বলেছে।
সকালের প্রথম চিন্তা
সকালে চোখ খুলল।
প্রথম চিন্তা এল।
আমি ডেকেছিলাম?
না।
সে নিজে এল।
তারপর আরেকটা — আজ মিটিং আছে। তারপর আরেকটা — গতকাল কেন বললাম সেটা।
একটাও ডাকিনি।
একের পর এক আসছে। আমি শুধু দেখছি।
তাহলে আমি কে? যে চিন্তা করছে, নাকি যে দেখছে চিন্তা?
মিথ্যা চিন্তা
বিকেলে কাজ করছি।
হঠাৎ চিন্তা এল — কাছের মানুষ কি রাগ করেছে?
কোথা থেকে এল জানি না। কেউ ঢুকিয়ে দিল।
সারাদিন ঘুরল। কাজ হলো না।
রাতে জিজ্ঞেস করলাম — রাগ করেছিলে?
বলল — না।
মিথ্যা চিন্তা। আমার মাথায়। সারাদিন কষ্ট দিল। আমি জানতামই না।
আমি মালিক?
জালে আটকা
ধ্যান করলাম। বলল — চিন্তা বন্ধ করো।
চেষ্টা করলাম।
চিন্তা এল।
“চিন্তা বন্ধ করতে হবে” — এটাও চিন্তা।
জালে আটকে আছি। আর জালটা মাথার ভেতরে।
ভালো আর খারাপ
ভালো চিন্তা এলে বলি — এটা আমার।
খারাপ চিন্তা এলে বলি — এটা আমার না।
কিন্তু কে ঠিক করছে কোনটা আমার?
স্বপ্ন
রাতে স্বপ্ন দেখলাম। কোথাও গেলাম। কারও সাথে কথা বললাম।
জেগে উঠলাম।
এই গল্প কে বানাল?
আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম।
কোনো তলা নেই
হয়তো কোনো “আমি” নেই।
শুধু চিন্তা আসছে যাচ্ছে। কেউ ভাবছে না, শুধু ভাবনা। কেউ দেখছে না, শুধু দেখা।
এটা মানলে সব সহজ হয়।
কিন্তু মানতে পারি না। কারণ এই যে “মানতে পারছি না” বলছি — সেই কেউ তো আছে।
নাকি সেটাও চিন্তা?
শেষ প্রশ্ন
রাতে শুতে গেলাম। চিন্তা থামছে না।
কাছের মানুষ মাথায় হাত রাখল। একটু থামল।
তারপর আবার শুরু।
শেষ চিন্তা — কোনোদিন মালিক হতে পারব?
উত্তর পেলাম না।
ঘুম এল।
কিন্তু মালিক প্রশ্নটার উত্তর দেয়নি। হয়তো মালিক বলে কেউ নেই।
হয়তো শুধু খেলা চলছে।
খেলোয়াড় নেই।

একটু ভাবনা রেখে যান