ব্যাংকের ডিজিটাল মেশিনে আঙুল রেখে স্ক্যান করাতে গিয়ে দেখলাম “ম্যাচ নট ফাউন্ড” লেখা ফুটে উঠেছে। কর্মচারী বলল, “আপনার আঙুলের ছাপ মিলছে না।” আমি অবাক হয়ে বললাম, “কীভাবে সম্ভব? এতো আমার নিজের আঙুল।” কিন্তু সে বলল, “সিস্টেম বলছে আপনি আপনি না।”
এই বাক্যটা শুনে আমার সারা শরীর শিউরে উঠল। আমি আমি না? তাহলে আমি কে?
আমি আবার চেষ্টা করলাম। এবারও একই ফলাফল। “ম্যাচ নট ফাউন্ড।” যেন আমার আঙুলের ছাপ রাতারাতি পাল্টে গেছে। যেন আমি অন্য কেউ হয়ে গেছি।
কর্মচারী বলল, “আপনি নিশ্চিত যে এই আইডি আপনার?” আমি বললাম, “অবশ্যই।” কিন্তু ভিতরে ভিতরে সন্দেহ জাগল। আমি কি সত্যিই হায়দার?
বাড়ি ফিরে এসে হ্যাপিকে বললাম, “আজ একটা অদ্ভুত ঘটনা হয়েছে।” ও জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?” আমি বললাম, “আমার আঙুলের ছাপ মিলছে না।” ও হেসে বলল, “মেশিনের সমস্যা হবে।”
কিন্তু আমার মনে সন্দেহ ঢুকে গেল। আমি যদি সত্যিই হায়দার হই, তাহলে আমার আঙুলের ছাপ কেন মিলবে না?
আরাশকে ডেকে বললাম, “তুই কি নিশ্চিত আমি তোর আব্বু?” ও অবাক হয়ে বলল, “আব্বু, আপনার কী হয়েছে?” আমি বললাম, “কিছু না।” কিন্তু মন থেকে সন্দেহ যায় না।
আমি নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলাম। এই আঙুলগুলো কার? এই আঙুলের ছাপ কার? আমার নাকি অন্য কারো?
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম, “হে আল্লাহ, আমি কি সত্যিই হায়দার? নাকি কোনো ভুল হয়েছে?”
পরের দিন আরেকটা ব্যাংকে গেলাম। সেখানেও একই সমস্যা। আঙুলের ছাপ মিলল না। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আমার পরিচয় কি বদলে গেছে?
আমি পুলিশ স্টেশনে গেলাম। তাদের কাছে আমার আঙুলের ছাপ যাচাই করতে চাইলাম। তারা বলল, “কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে?” আমি বললাম, “আমার আঙুলের ছাপ মিলছে না।”
তারা আমার আঙুল স্ক্যান করল। দেখল তাদের ডাটাবেসে আমার কোনো রেকর্ড নেই। যেন আমি কোনোদিন জন্মইনি।
আমি বুঝতে পারলাম আমার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ শুধু আমার মনে নয়। সিস্টেমেও আমার কোনো অস্তিত্ব নেই।
রাতে ঘুমানোর আগে ভাবি, আমি যদি হায়দার না হই, তাহলে আমি কে? আমার আসল পরিচয় কী?
আর এই সন্দেহ নিয়েই আমি প্রতিদিন বেঁচে থাকি। নিজেকে নিয়ে, নিজের পরিচয় নিয়ে।
একটু ভাবনা রেখে যান