সকালে অ্যালার্ম বাজলে প্রথম যে অনুভূতি আসে—”আবার অফিস।” আনন্দ নয়। ক্লান্তি। এই কাজে আনন্দ খুঁজতে গিয়ে হাত পাতলে শূন্য।
বন্ধু মৃদুল কানাডায় থাকে। ফোনে বলে, “দোস্ত, আমি এখন যে কাজ করি সেটা আমার প্যাশন।” ঈর্ষা হয়। আমার প্যাশন কী ছিল? মনে পড়ে না।
কাজ করি টাকার জন্য। সংসারের জন্য। দায়িত্বের জন্য। কিন্তু আনন্দের জন্য? না।
রাতে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত শরীরে বিছানায় পড়ি। ভাবি—আজ কী ভালো কাজ করেছি? কী আনন্দ পেয়েছি? উত্তর খুঁজে পাই না।
মানুষ বলে, “যে কাজে আনন্দ, সেটা কাজ না।” কিন্তু আমার কাজে আনন্দ নেই। তাহলে এটা শুধুই যন্ত্রণা?
ছোটবেলায় ছবি আঁকতাম। কাগজে রং মাখিয়ে নতুন জগৎ তৈরি করতাম। আনন্দ পেতাম। এখন কম্পিউটারে এক্সেল শিট তৈরি করি। আনন্দ নেই।
কখন হারিয়ে গেল সেই আনন্দ? কোন পথে হেঁটে এসেছি যেখানে কাজ আর আনন্দ বিপরীত দিকে?
একদিন আরাশ জিজ্ঞেস করল, “বাবা, আপনার কাজ ভালো লাগে?” সহজ প্রশ্ন, কঠিন উত্তর। বললাম, “হ্যাঁ।” মিথ্যা বললাম।
আমি কি আনন্দের জন্য কাজ করব নাকি কাজে আনন্দ খুঁজব? দুটোই কি সম্ভব?
অফিসে এক নতুন ছেলে এসেছে। নাম তানভীর। প্রতিদিন হাসিমুখে আসে। উৎসাহে কাজ করে। মনে হয় তার কাজে আনন্দ আছে। নাকি এই উৎসাহ কদিনের?
মাঝে মাঝে ভাবি—কাজ থেকে আনন্দ পাওয়া কি বিলাসিতা? মধ্যবিত্ত পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে কি আনন্দের কাজ করা সম্ভব?
“Follow your passion” বলা সহজ। কিন্তু passion এ টাকা আসে না। আর টাকা ছাড়া সংসার চলে না।
কিন্তু এই জীবন কি জীবন? প্রতিদিন যন্ত্রের মতো একই কাজ। একই রুটিন। কোনো উদ্দীপনা নেই। কোনো সৃজনশীলতা নেই।
রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবি—আমি কি ভুল পথে? আনন্দের জন্য যদি কাজ ছাড়ি, তাহলে পরিবারের কী হবে?
হয়তো ব্যালেন্স খুঁজতে হবে। অল্প কিছু সময় নিজের জন্য রাখতে হবে। ছবি আঁকার জন্য। গান শোনার জন্য।
কিন্তু সব সময় “হয়তো” ভাবলে চলবে কীভাবে?
একটা উপায় হতে পারে—কাজের মধ্যেই আনন্দের অংশ খুঁজে নেওয়া। নতুন কিছু শেখা। নতুনভাবে পুরনো কাজ করা।
আরেকটা উপায়—কাজের বাইরে আনন্দের জগৎ তৈরি করা। সন্ধ্যার পর নিজের সময়। সপ্তাহান্তে নিজের কাজ।
কিন্তু সেই এনার্জি পাব কোথায়? সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে সন্ধ্যায় আর কী করা সম্ভব?
হয়তো প্রশ্নটাই ভুল। কাজ আর আনন্দ আলাদা না। জীবনেরই দুটো রূপ।
সমস্যা হচ্ছে—আমি জীবনকে ভাগ করে ফেলেছি। কাজের জীবন। ব্যক্তিগত জীবন। দুটো আলাদা।
হয়তো এক করতে হবে। কাজকে জীবনের অংশ মানতে হবে। জীবনকে কাজের অংশ মানতে হবে।
কিন্তু সেই পথ খুঁজে পাব কোথায়? কে দেখাবে?
আনন্দ কি আমার ভিতরেই লুকিয়ে আছে? নাকি বাইরে খুঁজতে হবে?
একটু ভাবনা রেখে যান