ব্লগ

আনন্দের প্রথম ছবি

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

ছবি ১: জন্মের তিন দিন পর

আরাশের মুখ কুঁচকানো। চোখ বন্ধ। শুধু কান্না আর ঘুম। হ্যাপি বলে, “কখন হাসবে?” আমি বলি, “এখনো gas pain হচ্ছে। হাসি আসেনি।”

ছবি ২: দুই সপ্তাহ

ডাক্তার বলেন, “এখনো যে হাসি দেখছেন, সেগুলো রিফ্লেক্স। আসল হাসি আসবে ছয় থেকে আট সপ্তাহে।” আমি হতাশ হই। আরাশ কি আমাদের দেখে খুশি হয় না?

ছবি ৩: চার সপ্তাহ

আরাশ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখে একধরনের জিজ্ঞাসা। আমি তার সাথে কথা বলি। সে শুধু তাকায়। কিন্তু সেই তাকানোতে একটা যোগাযোগ আছে।

ছবি ৪: ছয় সপ্তাহের এক দিন – সকাল

আরাশ কাঁদছে। আমি তাকে কোলে নিই। “হুশ, হুশ” বলি। সে থামে। আমার মুখের দিকে তাকায়। আমি হাসি। সেও… না। শুধু তাকিয়ে থাকে।

ছবি ৫: একই দিন – বিকাল

হ্যাপি তার গাল টিপে দিচ্ছে। আরাশ অস্বস্তি বোধ করছে। মুখ কুঁচকে ফেলেছে। আমরা হতাশ। কবে হাসবে?

ছবি ৬: একই দিন – রাত

আমি একা আরাশের সাথে। সবাই ঘুমিয়ে। আমি তার পাশে বসে গুনগুন করে গান গাইছি। “চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে…” হঠাৎ আরাশের মুখে একটা পরিবর্তন।

ছবি ৭: সেই মুহূর্ত – ৯:৪৫ PM

প্রথম হাসি।

তার ঠোঁটের কোণ উঠে গেল। চোখ দুটো চিকচিক করে উঠল। পুরো মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল। একটা আনন্দের আলো ছড়িয়ে গেল সারা মুখে।

আমি হাঁ হয়ে তাকিয়ে রইলাম।

ছবি ৮: আমার প্রতিক্রিয়া

“হ্যাপি! হ্যাপি! তাড়াতাড়ি এসো! আরাশ হেসেছে!” আমি চিৎকার করলাম। হ্যাপি দৌড়ে এলো। কিন্তু ততক্ষণে আরাশ আবার সিরিয়াস হয়ে গেছে।

ছবি ৯: হ্যাপির সন্দেহ

“সত্যি? তুমি ভুল দেখনি তো?” হ্যাপি আরাশের মুখের দিকে তাকায়। আরাশ তার দিকে তাকিয়ে আবার হাসে! এবার আমরা দুজনেই দেখলাম।

ছবি ১০: দ্বিতীয় হাসি

এবার আরও স্পষ্ট। পুরো মুখ হেসে উঠেছে। চোখ দুটো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে হাসতে হাসতে। এক ধরনের pure joy ছড়িয়ে আছে তার মুখে।

ছবি ১১: আমাদের প্রতিক্রিয়া

আমরা দুজনেই কাঁদছি। খুশিতে। আরাশ আমাদের চিনতে পেরেছে। আমাদের দেখে খুশি হয়েছে। এর চেয়ে বড় পুরস্কার কী আছে?

ছবি ১২: সেই রাতের বাকি সময়

আরাশ আরও কয়েকবার হেসেছে। প্রতিবার আমরা নতুন করে অভিভূত হয়েছি। জীবনে এত আনন্দ আগে পাইনি।

ছবি ১৩: পরদিন সকাল

আরাশকে দেখেই আমি হাসি। সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসে। একটা যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এখন আমরা দুজনেই জানি – সে আমাদের চেনে।

ছবি ১৪: বিশ্লেষণ

প্রথম হাসি মানে কী? বিজ্ঞান বলে এটা সামাজিক বিকাশের শুরু। কিন্তু আমার মনে হয় এটা আত্মার প্রথম প্রকাশ। আরাশ বুঝতে পেরেছে যে সে ভালোবাসা পাচ্ছে।

ছবি ১৫: আজ, এগারো বছর পর

আরাশের হাসি এখন অন্যরকম। কিন্তু সেই প্রথম হাসির স্মৃতি আজও তাজা। সেদিন আমি জানতে পেরেছিলাম – আনন্দ কী জিনিস।

ছবি ১৬: উপলব্ধি

একটা শিশুর প্রথম হাসি তার জীবনের প্রথম উপহার। পিতা-মাতার কাছে। এই হাসি বলে – “আমি তোমাদের ভালোবাসি। আমি খুশি যে তোমরা আমার পাশে আছ।”

এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *