ব্লগ

ইবাদতের ভিতর আন্তরিকতার শূন্যতা

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আজ জুমার নামাজে গিয়েছি। সবার সাথে দাঁড়িয়েছি। নামাজ পড়েছি। কিন্তু মনে হচ্ছে আমি একটা অভিনয় করেছি।

নামাজের মধ্যে মন ছিল অফিসের কাজে। খুতবা শোনার সময় ভাবছিলাম কাল কী রান্না করব। সেজদায় গিয়ে চিন্তা করছিলাম বিজলি বিলের কথা।

আমি কি সত্যিই নামাজ পড়েছি? নাকি শুধু শারীরিক নড়াচড়া করেছি?

ইসলামে নিয়তের কথা বলা আছে। “ইন্নামাল আ’মালু বিন্নিয়্যাত।” সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভর করে। আমার নিয়ত কী ছিল? আল্লাহর ইবাদত? নাকি সামাজিক রীতি পালন?

সত্যি কথা বলতে, আমি নামাজে যাই কারণ সবাই যায়। না গেলে মানুষ কী ভাববে?

ইমাম সাহেব দেখলে খুশি হন। পাড়ার মানুষ দেখলে ভাবে আমি ভালো মুসলিম। এই কারণেই যাই।

কিন্তু আল্লাহর জন্য যাই কতটুকু?

রমজান মাসে রোজা রাখি। কিন্তু রোজার আসল উদ্দেশ্য কী? আল্লাহর আনুগত্য? নাকি সামাজিক চাপ?

আমার মনে হয় আমি রোজা রাখি কারণ সবাই রাখে। অফিসে সবাই জানে আমি রোজাদার। না রাখলে অস্বস্তি হবে।

কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমি কি সত্যিই আল্লাহর জন্য রোজা রাখি?

যাকাত দেওয়ার সময়ও একই অবস্থা। দেই কারণ এটা ইসলামের নিয়ম। কিন্তু দেওয়ার সময় মনে আনন্দ থাকে না। মনে হয় টাকা নষ্ট হলো।

এই মানসিকতা কি ঠিক?

কোরআন তেলাওয়াতের সময় মুখে আরবি শব্দ বের হয়। কিন্তু মনে কোনো প্রভাব পড়ে না। আল্লাহর সাথে কোনো সংযোগ অনুভব করি না।

দোয়া করার সময়ও একই ব্যাপার। হাত তুলি, মুখে কথা বলি। কিন্তু হৃদয় থেকে বলি না।

মনে হয় আমি একটা রোবট। ইসলামের সব রীতি পালন করি। কিন্তু আত্মা নেই।

এই অবস্থায় আমার ইবাদত কি আল্লাহ কবুল করেন?

কোরআনে পড়েছি, “ইন্নামা ইয়াতাকাব্বালুল্লাহু মিনাল মুত্তাকিন।” আল্লাহ শুধু মুত্তাকিদের আমল কবুল করেন। আমি কি মুত্তাকি?

তাকওয়া মানে আল্লাহর ভয়। আমার মধ্যে কি সেই ভয় আছে?

যখন অফিসে মিথ্যা বলি, তখন আল্লাহর ভয় থাকে না। যখন মানুষকে ঠকাই, তখনও না।

তাহলে আমার তাকওয়া কোথায়?

মাঝে মাঝে ভাবি, আমি কি একজন মুনাফিক? বাইরে ধার্মিক, ভিতরে অন্য কিছু?

হাদিসে মুনাফিকের লক্ষণের কথা পড়েছি। কথা বললে মিথ্যা বলে। ওয়াদা করলে ভাঙে। আমানত রাখলে খেয়ানত করে।

আমার মধ্যে এই লক্ষণগুলো আছে কিনা ভেবে দেখি। দুঃখের বিষয়, কিছুটা আছে।

তাহলে আমি কি মুনাফিক?

এই চিন্তা আমাকে ভয় দেয়।

হ্যাপিকে একদিন বলেছিলাম, “আমার মনে হয় আমি ভণ্ড।”

হ্যাপি বলেছিল, “কেন?”

আমি বলেছিলাম, “ইবাদত করি, কিন্তু মন থাকে না।”

হ্যাপি বলেছিল, “তাহলে মন দিয়ে করার চেষ্টা করো।”

কিন্তু মন দেওয়া কি এত সহজ?

আমি চেষ্টা করি। নামাজের সময় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু পারি না। মন অন্যদিকে চলে যায়।

হয়তো এটা আমার অভ্যাসের সমস্যা। অনেকদিন যান্ত্রিকভাবে ইবাদত করেছি। এখন আন্তরিকতা আনতে কষ্ট হচ্ছে।

নাকি আমার ইমানেই সমস্যা?

আল্লাহর কাছে দোয়া করি, “হে আল্লাহ, আমার ইবাদতে আন্তরিকতা দিন। আমার হৃদয় জাগিয়ে দিন।”

কিন্তু এই দোয়াও কি আন্তরিকতা দিয়ে করি?

জানি না।

তবু করি। কারণ আশা করি একদিন সত্যিকারের আন্তরিকতা আসবে।

ইবাদত ছেড়ে দেওয়া তো আরো খারাপ। তাই যান্ত্রিক হলেও চালিয়ে যাই।

হয়তো একদিন যন্ত্র মানুষ হয়ে উঠবে।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *