ব্লগ

যন্ত্রণার চাকায় আটকা পড়া

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

মনে মনে বললাম, “ধীরে চল।” সময়কে আদেশ দিলাম। কারণ হ্যাপির সাথে এই মুহূর্তটা আরো দীর্ঘ করতে চাই।

সে চা বানাচ্ছে রান্নাঘরে। আমি দেখছি তার নিপুণ হাত। প্রতিটি নড়াচড়া যেন একটা কবিতা।

“আরো ধীরে,” মনে মনে বললাম। “এই সৌন্দর্য শেষ হয়ে যাক না।”

হঠাৎ দেখি হ্যাপির হাত থেমে গেছে। চায়ের কাপ বাতাসে ঝুলে আছে। তার চোখের পাতা অর্ধেক বন্ধ।

আমার আদেশ কাজ করেছে। সময় প্রায় থেমে গেছে।

কিন্তু এখন আমি চাই আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যাক। মনে মনে বললাম, “ঠিক আছে, এবার স্বাভাবিক হও।”

কিন্তু কিছু হলো না। হ্যাপি সেই একই অবস্থানে আটকে আছে।

আমি জোরে বললাম, “স্বাভাবিক গতিতে চল!”

তখন যা হলো, তা আরো ভয়াবহ। সময় হুড়োহুড়ি করে এগিয়ে যেতে লাগল।

হ্যাপি দ্রুত চা বানালো। দ্রুত পরিবেশন করলো। দ্রুত পরিষ্কার করলো। সব কিছু এত তাড়াতাড়ি যে আমি ঠিকমতো দেখতেই পেলাম না।

“থাম!” চিৎকার করলাম।

কিন্তু সময় আরো দ্রুত হলো। আরাশ স্কুল থেকে এলো আর গেল মুহূর্তেই। দিন হলো রাত। রাত হলো দিন।

আমি আতঙ্কিত হয়ে বুঝলাম, আমি সময়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি।

সপ্তাহ কেটে গেল পলকে। মাস গেল। বছর গেল।

আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি জীবন দৌড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছি না।

হ্যাপি বুড়ো হয়ে গেল। আরাশ বড় হলো, চাকরি পেল, বিয়ে করলো। আমি বৃদ্ধ হয়ে গেলাম।

কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এই সব কিছু আজকেই ঘটেছে।

যে সময়টুকু উপভোগ করতে চেয়েছিলাম, সেটাই হারিয়ে গেল।

আমি বুঝলাম, সময়কে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা মানে জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা। কিন্তু জীবন নিয়ন্ত্রণের জিনিস নয়।

আমি যখন হ্যাপির সৌন্দর্য ধরে রাখতে চেয়েছিলাম, তখন সেই সৌন্দর্যই হারিয়ে গেছে। কারণ সৌন্দর্য আছে প্রবাহমানতায়। স্থিরতায় নয়।

এখন আমি একটা বৃত্তের মধ্যে আটকে আছি। সময় নিয়ন্ত্রণ করতে চাই, তাই আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ হারাই।

আল্লাহ, আমি কি এই চক্র থেকে বের হতে পারব? নাকি চিরকাল এই যন্ত্রণার চাকায় ঘুরতে থাকব?

হয়তো মুক্তি আছে গ্রহণ করায়। সময়কে যেমন আছে তেমনি নিতে।

কিন্তু সেই গ্রহণ করার শক্তি কোথায় পাব?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *