আশরাফ সাহেব আজ বলেছেন, “হায়দার, তুমি যদি একটু… ইউ নো… নমনীয় হও, তাহলে প্রমোশনটা পাওয়া যেতে পারে।” আমি বুঝেছি। নমনীয় মানে বাঁকানো। নিজেকে বাঁকানো।
বাড়ি ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছি। দেখি আমার মুখ। এই মুখটা কি বিকিয়ে দেওয়া যায়? এই মুখ যে হ্যাপির কাছে হাসে, আরাশের কাছে গল্প বলে, সেই মুখটা?
অফিসে যারা প্রমোশন পেয়েছে, তাদের দেখি। শফিক ভাই গত বছর সিনিয়র অফিসার হয়েছেন। আগে তিনি বলতেন, “এই কাজটা ঠিক না।” এখন বলেন, “যাই হোক, কাজ করতে হবে।” তার মুখটা আগের মতো নেই।
রাকিব ভাই ম্যানেজার হওয়ার পর একদিন বলেছিলেন, “হায়দার, তুমি বুঝবে না। উপরে থাকলে অনেক কিছু করতে হয়।” আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কী করতে হয়?” তিনি চুপ থেকেছেন।
আমি ভাবি, প্রমোশন পেলে কী হবে? বেতন বাড়বে। আরাশের জন্য ভালো স্কুল, হ্যাপির জন্য ভালো ডাক্তার। আমাদের নিজেদের ফ্ল্যাট। এসব ভালো কথা।
কিন্তু দাম কী? আমাকে হ্যাঁ বলতে হবে যেখানে না বলার কথা। আমাকে চুপ থাকতে হবে যেখানে কথা বলার কথা। আমাকে হাসতে হবে যেখানে কাঁদার কথা।
হ্যাপিকে জিজ্ঞেস করি, “তুমি কি চাও আমি প্রমোশন পাই?” হ্যাপি বলে, “তুমি কী চাও?” আমি বলি, “জানি না।” হ্যাপি বলে, “তাহলে জেনে নাও।”
কিন্তু কিভাবে জানব? প্রমোশন মানে কি শুধু টাকা? নাকি এর চেয়ে বড় কিছু? আমি যদি নিজেকে বদলে ফেলি, তাহলে সেই টাকা দিয়ে কী করব?
আয়নায় আবার তাকাই। এই মুখটা কি আমার? নাকি আমি শুধু একটা ভূমিকা পালন করছি? মুখোশ পরে আছি?
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমি যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি। যেন টাকার লোভে নিজেকে হারিয়ে না ফেলি। কিন্তু যেন পরিবারের দায়িত্বও পালন করতে পারি।
কাল অফিসে গিয়ে আশরাফ সাহেবকে কী বলব, জানি না। হয়তো বলব, “আমি আমিই থাকতে চাই।” হয়তো বলব, “আমি নমনীয় হতে পারব।”
দুটোর মধ্যে কোনটা ঠিক, আজ রাতে ঠিক করতে হবে।
একটু ভাবনা রেখে যান