ব্লগ

যখন বাবা বোঝা যায়

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আরাশ জ্বরে পড়েছে। আমি সারারাত জেগে তার মাথায় পানি দিয়েছি, ওষুধ খাইয়েছি, তার পাশে বসে থেকেছি।

সকালে আরাশের জ্বর কমেছে। কিন্তু আমার চোখে ঘুম নেই।

আমার মনে পড়ল, আমি যখন ছোট ছিলাম, একবার আমারও এমন জ্বর হয়েছিল। আমার বাবাও কি এভাবে সারারাত জেগেছিলেন?

আমি তখন খেয়াল করিনি। শিশুরা এসব খেয়াল করে না।

এখন আমি বাবা হয়ে বুঝতে পারছি, বাবা মানে কী। বাবা মানে সন্তানের যত্নে নিজেকে ভুলে যাওয়া।

আমার বাবা যখন অফিস করতেন, আমি ভাবতাম তিনি মজা করেন। এখন বুঝি, তিনি আমাদের জন্য নিজের জীবন দিয়েছিলেন।

আমার বাবা খুব কম কথা বলতেন। আমি ভাবতাম তিনি আমাদের ভালোবাসেন না। এখন বুঝি, তাঁর মন ভরা ছিল দায়িত্বের ভারে। ভালোবাসা প্রকাশ করার সময় পেতেন না।

আমার বাবা কখনো আমার সাথে খেলেননি। আমি ভাবতাম তিনি আমার প্রতি উদাসীন। এখন বুঝি, তিনি হয়তো খুব ক্লান্ত থাকতেন। সারাদিনের কাজের পর আর শক্তি থাকত না।

আমার বাবা আমাদের জন্য অনেক স্বপ্ন দেখতেন। চাইতেন আমি যেন তাঁর চেয়ে ভালো কিছু হই। কিন্তু সেই চাওয়াটা কখনো বলেননি। শুধু কঠোর হয়ে থেকেছেন।

এখন আমি আরাশের সাথে ঠিক তেমনি আচরণ করি।

আমিও স্বপ্ন দেখি আরাশ আমার চেয়ে ভালো কিছু হোক। আমিও চিন্তায় থাকি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে। আমিও কখনো কখনো কঠোর হয়ে যাই।

আমি বুঝতে পারি, বাবারা একই রকম। প্রতিটি বাবা তার সন্তানের জন্য নিজেকে বিসর্জন দেয়।

আমার বাবা যখন মারা গেলেন, আমি তাঁকে বলতে পারিনি যে আমি তাঁকে ভালোবাসি। আমি বুঝতেই পারিনি তিনি কত কিছু করেছিলেন আমার জন্য।

এখন যখন আরাশকে দেখি, মনে হয় সেও হয়তো আমাকে বুঝবে না। আমার সংগ্রাম দেখবে না। আমার ভালোবাসা টের পাবে না।

কিন্তু একদিন যখন সেও বাবা হবে, তখন আমাকে বুঝবে।

এটাই নিয়ম। প্রতিটি প্রজন্ম পরের প্রজন্মের বাবা হওয়ার পর বুঝতে পারে।

আমি চাই আরাশ আমাকে বুঝুক আগেই। আমি তাকে বলতে চাই, “তোকে ভালোবাসি।” আমি তার সাথে খেলতে চাই। তার স্বপ্নের কথা শুনতে চাই।

আমি চাই না আরাশের বাবা হওয়ার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে।

আমি আরাশকে ডাকি। “আরাশ, এদিকে আয়।”

“কী বাবা?”

“আমি তোকে ভালোবাসি।”

আরাশ অবাক হয়। “আচানক কেন?”

“কারণ তুই আমার সন্তান।”

আরাশ আমাকে জড়িয়ে ধরে। “আমিও তোমাকে ভালোবাসি বাবা।”

এই মুহূর্তে আমি আমার বাবাকে মিস করি।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *