আমি বাবার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আরাশের হাত ধরে। পকেটে একটা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন।
আরাশের টনসিল অপারেশন করতে হবে। খরচ পঁচিশ হাজার টাকা।
আমার কাছে দশ হাজার আছে। আরো পনেরো হাজার চাই।
আমি উনচল্লিশ বছর বয়সে আমার বাবার কাছে টাকা চাইতে এসেছি।
লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আছে।
বাবা দরজা খুলে দিলেন। তাঁর চোখে প্রশ্ন।
“এত সকালে?”
“বাবা, আরাশের একটা সমস্যা।”
আমরা ভিতরে গেলাম। বাবার মুখে চিন্তা।
“কী সমস্যা?”
আমি প্রেসক্রিপশনটা দিলাম। বাবা পড়লেন।
“কত খরচ হবে?”
“পঁচিশ হাজার টাকা।”
বাবা আমার দিকে তাকালেন। তাঁর চোখে সেই পুরনো দুঃখ। যে দুঃখ আমি ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি।
তাঁর ছেলে এখনো তাঁর কাছে হাত পেতে আসে।
“তোমার কাছে কত আছে?”
“দশ হাজার।”
বাবা চুপ হয়ে গেলেন।
আমি জানি তিনি হিসাব করছেন। তাঁর পেনশনের টাকা থেকে কত দিতে পারবেন।
“আমি ব্যবস্থা করে দেব।”
আমার চোখে পানি এসে গেল।
আমার বাবা সত্তর বছর বয়সে আমার সন্তানের দায়িত্ব নিচ্ছেন।
আরাশ বাবার কোলে বসল। বাবা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
“ভয় পাবি না। সব ঠিক হয়ে যাবে।”
আমার মনে পড়ল, আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার অসুখ হলে বাবাও এমনই করতেন।
এখন আমার ছেলের জন্য একই কাজ করছেন।
বাবা আমাকে একটা খাম দিলেন। “এখানে বিশ হাজার টাকা আছে।”
আমি খামটা নিতে পারছি না।
“বাবা, আমার তো দশ হাজার আছে। পনেরো হাজার হলেই…”
“বাকি পাঁচ হাজার রেখে দে। যদি আরো কিছু লাগে।”
বাবার এই উদারতায় আমার গলা চেপে আসে।
আমি কত স্বার্থপর। শুধু প্রয়োজনের সময় বাবার কাছে আসি।
“বাবা, আমি ফেরত দেব।”
“দেওয়ার দরকার নেই। আরাশ আমার নাতি।”
বাড়ি ফেরার পথে আরাশ জিজ্ঞেস করল, “বাবা, তুমি কাঁদছ কেন?”
আমি কীভাবে বলব যে লজ্জায় কাঁদছি?
আমার বাবা আমাকে এখনো সন্তান মনে করেন। আমার সন্তানকে তাঁর সন্তান মনে করেন।
কিন্তু আমি তাঁর যোগ্য সন্তান হতে পারিনি।
উনচল্লিশ বছর বয়সেও তাঁর বোঝা।
একটু ভাবনা রেখে যান