অফিসে তিনটা গ্রুপ। একটা বসের সাথে। একটা ডেপুটি বসের সাথে। একটা একাউন্টসের সাথে। আমি কোনো গ্রুপে নেই।
রহিম সাহেব নতুন প্রজেক্ট নিয়ে এসেছেন। বিশাল প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টে কাজ করতে পারলে ক্যারিয়ার এগিয়ে যাবে।
কিন্তু প্রজেক্টে কে কাজ করবে? যারা বসের গ্রুপে, তারা। আমার নাম তালিকায় নেই।
“কেন আমার নাম নেই?” জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু জিজ্ঞেস করতে পারি না। জিজ্ঞেস করলে বলবে, “পরে দেখা যাবে।”
লাঞ্চে সবাই একসাথে বসে। কথা বলে। হাসে। আমি একা বসি। একা খাই। একা ফিরি।
“আমাদের সাথে বসো।” কেউ বলে না।
আমিও বলি না, “নিয়ে চলো।”
অফিসে গুজব ছড়ায়। কে কী বলেছে। কে কার পক্ষে। কে কার বিপক্ষে। আমি কিছু জানি না। কেউ আমাকে কিছু বলে না।
হারুণ একদিন বলল, “তুমি কার পক্ষে?”
“কিসের পক্ষে?” জিজ্ঞেস করলাম।
“নতুন বসের ব্যাপারে। রহিম সাহেব যাবেন। নতুন কেউ আসবে। তুমি কাকে চাও?”
জানি না কাকে চাই। জানি না কে আসবে। জানি না কেন এসব জানা দরকার।
“জানি না।” বললাম।
হারুণ চলে গেল। তার মুখে বিরক্তি।
সপ্তাহ খানেক পরে জানা গেল। নতুন বস হয়েছেন। নতুন লিস্ট হয়েছে। কে কোন পোস্টে। আমার নাম একই জায়গায়। একই পোস্টে।
অন্যরা উঠেছে। নামেছে। আমি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে।
হারুণ এখন সিনিয়র অফিসার। সে বলল, “তুমি যদি একটু চেষ্টা করতে।”
“কী চেষ্টা?”
“মানুষের সাথে মিশতে। কথা বলতে। রাজনীতি বুঝতে।”
রাজনীতি। এই শব্দটা শুনলে গা গুলিয়ে ওঠে। আমি কাজ করতে এসেছি। রাজনীতি করতে নয়।
“আমি কাজ করি।” বললাম।
“কাজ করলেই হবে? মানুষকে বুঝতে হবে। সিস্টেম বুঝতে হবে।”
সিস্টেম? কী সিস্টেম? কার সাথে কখন কথা বলতে হবে? কাকে কী বলতে হবে? কার পায়ে পড়তে হবে?
এসব আমি পারি না। পারতে চাইও না।
বাড়িতে হ্যাপিকে বললাম, “অফিসে সবাই এগিয়ে যাচ্ছে। আমি পিছিয়ে।”
“কেন?”
“আমি রাজনীতি পারি না।”
“রাজনীতি না পারলে কী সমস্যা?”
কী সমস্যা? সমস্যা হলো প্রমোশন পাই না। বেতন বাড়ে না। সবার পেছনে পড়ে থাকি।
“সমস্যা নেই।” বললাম।
মিথ্যা কথা। অনেক সমস্যা।
রাতে ভাবলাম। আমি কি ভুল? নাকি অন্যরা ভুল? কাজ ভালো করলেই কি যথেষ্ট নয়? রাজনীতি জানা কি জরুরি?
নাকি আমি বেশি সরল? বেশি সোজা? এই পৃথিবীতে টিকতে হলে কি একটু বাঁকা হতে হয়?
কিন্তু আমি বাঁকা হতে পারি না। শিখতেও পারি না। এটাই আমার দুর্বলতা। এটাই আমার শক্তি।
জানি না কোনটা।
একটু ভাবনা রেখে যান