ব্লগ

বড়ির বন্দিশালা

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

সকাল সাতটা। আমি আমার ওষুধের বক্স খুলি।

সাদা বড়ি—প্রেশারের জন্য। নীল বড়ি—ডায়াবেটিসের জন্য। হলুদ বড়ি—কোলেস্টেরলের জন্য। গোলাপি বড়ি—গ্যাস্ট্রিকের জন্য।

আমার সকাল শুরু হয় এই চারটা বড়ি দিয়ে।

দুপুর একটায় আরো দুটো বড়ি। রাতে আরো তিনটা।

মোট নয়টা বড়ি প্রতিদিন।

আমি একটা ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখি। কোন বড়ি কখন খেতে হবে।

এই ক্যালেন্ডার আমার জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আমি ভ্রমণে গেলে প্রথমে ওষুধ প্যাক করি। তারপর কাপড়।

আমি বাইরে খেতে গেলে পকেটে বড়ি রাখি।

আমার মোবাইলে অ্যালার্ম দেওয়া। সকাল সাতটায়, দুপুর একটায়, রাত নয়টায়।

আমি এই অ্যালার্মের দাস।

অ্যালার্ম বাজলে যেখানেই থাকি, যা করি, সব ছেড়ে বড়ি খেতে হয়।

আমার বন্ধু জামিউল একদিন বলল, “তুমি ওষুধের দোকান হয়ে গেছ।”

সে হাসির ছলে বলেছিল। কিন্তু আমার হাসি আসেনি।

আমি সত্যিই ওষুধের দোকান হয়ে গেছি।

আমার ব্যাগে সবসময় বড়ির স্ট্রিপ। আমার পকেটে পানির বোতল।

আমি কোনো বড়ি মিস করতে পারি না। মিস করলে প্রেশার বাড়বে, সুগার বাড়বে।

ডাক্তার বলেছেন, “এই ওষুধগুলো সারাজীবন খেতে হবে।”

সারাজীবন। মানে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত।

আমি হিসাব করি। আমি যদি আরো তিরিশ বছর বাঁচি, তাহলে আরো ৯৮,৫৫০টা বড়ি খাব।

এক লাখের কাছাকাছি।

এক লাখ বড়ি দিয়ে জীবন কেনা।

আমি মাঝে মাঝে ভাবি, এই বড়ি খাওয়া বন্ধ করে দিলে কী হবে?

হয়তো তাড়াতাড়ি মরে যাব। কিন্তু অন্তত মুক্ত থাকব।

কিন্তু পারি না। কারণ আরাশ আছে। হ্যাপি আছে। তাদের জন্য বাঁচতে হবে।

এই বড়ির বন্দিত্ব মেনে নিতে হবে।

আমার জীবন এখন নয়টি বড়ির রুটিনে বাঁধা।

সকাল সাতটার অ্যালার্ম বেজেছে।

বড়ি খাওয়ার সময়।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *