অনলাইনে একটা ফরম পূরণ করতে গিয়ে “বর্তমান ঠিকানা” লেখার ঘরে এসে হঠাৎ থমকে গেলাম। আমি কী লিখব? আমার বাড়ির ঠিকানা কী? পনের বছর ধরে একই বাড়িতে থাকি, কিন্তু এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না ঠিকানাটা কী।
রোড নম্বর কত? হোল্ডিং নম্বর কত? পোস্ট কোড কী? এই তথ্যগুলো কোথায় হারিয়ে গেল? আমি প্রতিদিন এই বাড়িতে আসি, এই বাড়িতে থাকি। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা জানি না।
আমি অন্য ট্যাব খুলে গুগল ম্যাপে সার্চ করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কী সার্চ করব? আমি জানি না আমার বাড়ি কোথায়।
হ্যাপিকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, “আমাদের বাড়ির ঠিকানা কী?” সে অবাক হয়ে বলল, “কেন? ভুলে গেছ?” আমি বললাম, “একটু মনে করতে পারছি না।” সে বলল, “তুমি তো এতদিন ধরে এই ঠিকানাই লেখ।”
কিন্তু আমি সত্যিই মনে করতে পারছি না। যেন আমার স্মৃতি থেকে আমার নিজের বাড়ির ঠিকানা মুছে গেছে।
আরাশকে জিজ্ঞেস করলাম, “তুই জানিস আমাদের বাড়ির ঠিকানা?” ও বলল, “জানি না তো। আমি তো স্কুলে শুধু এলাকার নাম লিখি।”
আমি বুঝলাম আমরা কেউই জানি না আমরা কোথায় থাকি। আমাদের একটা বাড়ি আছে, আমরা সেখানে থাকি। কিন্তু সেই বাড়ির ঠিকানা জানি না।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম, “হে আল্লাহ, আমি কোথায় আছি? আমার ঠিকানা কী?” কিন্তু আল্লাহও হয়তো জানেন না আমি কোথায়।
আমি বের হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখলাম কোনো সাইনবোর্ড আছে কিনা। কিছু নেই। আমার বাড়ির সামনে কোনো নাম্বার নেই। রাস্তার কোনো নাম নেই।
আমি কোথায় থাকি? এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।
পোস্ট অফিসে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আমার এলাকার পোস্ট কোড কী?” তারা বলল, “আপনার ঠিকানা বলুন।” আমি বললাম, “আমি জানি না।” তারা বলল, “তাহলে আমরা কীভাবে বলব?”
আমি বুঝলাম আমি একটা ভূতুড়ে জায়গায় থাকি। যার কোনো ঠিকানা নেই। যেখানে আমি আছি, কিন্তু জানি না কোথায়।
হয়তো আমার কোনো ঠিকানা নেই। আমি একজন ঠিকানাবিহীন মানুষ। যে কোথাও থাকে, কিন্তু কোথায় থাকে জানে না।
রাতে ঘুমানোর আগে ভাবি, আমি যদি হারিয়ে যাই, তাহলে কেউ কীভাবে আমাকে খুঁজে পাবে? আমার কোনো ঠিকানা নেই।
আর এই ভয়েই আমি বাড়ির বাইরে যেতে চাই না। কারণ ফিরে আসার ঠিকানা জানি না।
একটু ভাবনা রেখে যান