প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ভাবি, আজ যদি চাকরি ছেড়ে দিই?
কী হবে তখন? আরাশের স্কুল ফি কে দেবে? হ্যাপির ওষুধের পয়সা আসবে কোথা থেকে? বাড়ি ভাড়া? মাসিক বাজার?
স্বপ্ন দেখি ছোট একটা দোকান দেওয়ার। বই-খাতার দোকান। কিংবা চায়ের দোকান। নিজের মালিক হওয়ার। কিন্তু দোকান দিতে টাকা লাগে। আমার কোনো টাকা নেই।
মাঝে মাঝে ভাবি, লেখালেখি করে কিছু হয় কিনা। কিন্তু লেখালেখি দিয়ে সংসার চলে না। অন্তত এই দেশে না।
অফিসে বসে অন্য চাকরির খবর দেখি। ইন্টারনেটে CV পাঠাই। কিন্তু কেউ ডাকে না। হয়তো আমার যোগ্যতা কম। হয়তো আমার বয়স বেশি।
৩৯ বছর বয়সে নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন। সবাই তরুণ চায়।
একদিন জামিউর বলেছিল, “তুই একটা অটো রিকশা কিন। ভালো ইনকাম।” আমি ভেবেছিলাম। অটো রিকশার দাম ২ লাখ। কোথায় পাব?
আর অটো চালানো যে একটা শিল্প। সেটা আমি জানি না।
হ্যাপিকে একদিন বলেছিলাম, “আমি যদি চাকরি ছেড়ে দিই?” হ্যাপি বলেছিল, “তারপর কী করবে?” আমি বলেছিলাম, “জানি না।” হ্যাপি বলেছিল, “তাহলে ছেড়ো না।”
হ্যাপি ঠিক কথা বলেছে। স্বপ্ন দেখা আর বাস্তবায়ন করা দুটো আলাদা জিনিস।
আমি স্বপ্নেই আটকে আছি।
রাতে বিছানায় শুয়ে ভাবি, আমি কি সারাজীবন এই চাকরিতেই থাকব? সারাজীবন এই বসের কাছে মাথা নত করে?
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমি যেন একদিন নিজের কাজ করতে পারি। যেন কারো গোলাম না থাকি।
কিন্তু জানি, এই দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
কারণ স্বপ্ন দেখতে টাকা লাগে না। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে লাগে।
একটু ভাবনা রেখে যান