ব্লগ

বেতন দেরির যাত্রাপথ

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

অফিস থেকে বের হয়ে বাসে উঠলাম। আজ বেতনের দিন ছিল। কিন্তু পাইনি।

অ্যাকাউন্টস সেকশন বলেছে, “আরো দুই দিন লাগবে।”

দুই দিন। যেন দুই যুগ।

বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই। রাস্তার পাশে ফুচকাওয়ালা। আমার জিভে পানি এসে যায়।

কিন্তু পকেটে ৫০ টাকা। ফুচকা খেতে পারি না।

আমার পাশে এক ভদ্রলোক ফোনে কথা বলছেন।

“হ্যাঁ, বেতন পেয়েছি। আজ রাতে বাইরে খাব।”

আমার বুকে হিংসা জাগে।

বাড়ি যত কাছে আসছে, তত চিন্তা বাড়ছে।

হ্যাপি বলবে, “বেতন?”

আমি কী বলব?

আরাশের নতুন বই কিনতে হবে। হ্যাপির ওষুধ শেষ।

দুই দিন পর মানে ৩ তারিখ। মাস তো প্রায় শেষ।

আমি ফোন করি অফিসে।

“স্যার, বেতনের ব্যাপারে কোনো আপডেট?”

“কাল হয়ে যাবে। চিন্তা করবেন না।”

চিন্তা করব না? আমার সংসার তো থেমে আছে।

বাড়ির কাছে এসে দেখি হ্যাপি দোকানে কিছু কিনছে। বাকিতে।

আমার মাথা হেট হয়ে যায়।

আমার বেতন দেরি হওয়ার কারণে সে বাকি নিতে বাধ্য।

আমি ঘরে ঢুকি।

“বেতন?” হ্যাপির প্রশ্ন।

“দুই দিন পর।”

হ্যাপি কিছু বলে না। কিন্তু তার চোখে হতাশা।

এই দুই দিন আমরা কীভাবে চালাব?

আমি বিছানায় শুয়ে ভাবি, অন্য কর্মচারীরা কি এমন যন্ত্রণা পায়?

বেতন দেরি মানে শুধু টাকা দেরি নয়।

মানে পরিবারের কাছে মুখ লুকিয়ে রাখা।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *