ব্লগ

বিছানার কারাগার

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

সকাল ৭টা। অ্যালার্মের শব্দে চোখ খুলেছে। কিন্তু উঠতে পারছি না। বিছানা যেন একটা চুম্বক হয়ে গেছে। আমার শরীর যেন লোহার টুকরো। কোনো শক্তিতেই আলাদা হতে পারছি না।

চাদর ও বালিশের মধ্যে এমন একটা উষ্ণতা, এমন একটা নিরাপত্তা যে বাইরের পৃথিবী মনে হয় ভয়ংকর ঠান্ডা। যেন বিছানার বাইরে মৃত্যু, ভিতরে জীবন।

মনে মনে বলি, “আরো ৫ মিনিট।” কিন্তু সেই ৫ মিনিট হয়ে যায় ১৫ মিনিট। তারপর ৩০ মিনিট। সময় পার হচ্ছে, কিন্তু আমি যেন পাথর হয়ে পড়ে আছি।

হ্যাপি ডাকছে নিচ থেকে। “তাড়াতাড়ি কর। দেরি হয়ে যাচ্ছে।” আমি জবাব দিই, “আসছি।” কিন্তু আমার শরীর সেই জবাবের সাথে একমত নয়।

আরাশ স্কুলে যেতে তৈরি। সে তাড়াতাড়ি করছে। আর আমি এখনো বিছানায় পড়ে আছি। একজন বাবা হিসেবে এটা কেমন দেখায়? কিন্তু উঠতে পারছি না।

পা দুটো বিছানার বাইরে ঝুলিয়ে দিই। কিন্তু সেটুকুই। পুরো শরীর উঠাতে পারছি না। যেন একটা অদৃশ্য হাত আমাকে টেনে রাখছে।

এই অক্ষমতা নিয়ে লজ্জা লাগে। একটা সাধারণ কাজ – বিছানা থেকে উঠা। কিন্তু আমার কাছে এটা মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার মতো কঠিন।

বাবা যখন বেঁচে ছিলেন, ভোর ৫টায় উঠতেন। কোনো অ্যালার্ম ছাড়াই। আর আমি? সাত-আটটা অ্যালার্ম দিয়েও উঠতে পারি না।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, “আমাকে উঠার শক্তি দাও।” কিন্তু সেই প্রার্থনাও বিছানায় শুয়ে শুয়ে করি। দাঁড়িয়ে করতে পারি না।

অফিসে দেরি হবে। বসের কাছে বকা খাব। সহকর্মীরা ব্যঙ্গ করবে। এসব জেনেও উঠতে পারছি না। এটা কিসের দুর্বলতা?

অবশেষে ৮টার দিকে কোনোমতে উঠি। তাড়াতাড়ি তৈরি হই। ছুটে অফিসে যাই। পুরো দিন মনে থাকে সকালের সেই অক্ষমতার কথা।

সন্ধ্যায় ভাবি, “আগামীকাল সকাল সকাল উঠব।” কিন্তু জানি পরদিন সকালে আবার সেই একই অবস্থা। আবার সেই বিছানার কারাগার।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *