হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছি। গত তিন দিন ধরে।
সাদা ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। আর ভাবি।
আমার জীবনের অর্থ কী ছিল?
ঊনচল্লিশ বছর বয়সে এসে এই প্রশ্ন। কেন আগে করিনি?
আমি কী রেখে যাব? কিছু লেখা? সেগুলোও তেমন কিছু না। কয়েক বছর পর কেউ মনে রাখবে?
আরাশ? সে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। কিন্তু সেও একদিন মারা যাবে। তার সন্তান হবে, তারপর সেই সন্তানের সন্তান। আমার নাম ভুলে যাবে।
তাহলে আমার জীবনের মানে কী?
আমার পাশের বেডে একজন বুড়ো লোক শুয়ে। তার বয়স সত্তর। তিনি একা। কেউ দেখতে আসে না।
তিনি আমাকে বলেছিলেন, “আমার তিনটা ছেলে। সবাই বিদেশে। বছরে একবার ফোন করে।”
আমি ভাবি, আরাশও কি একদিন আমাকে ভুলে যাবে?
নার্স এসে ওষুধ দেয়। আমি খাই। জানি না কেন খাই।
বাঁচার জন্য? কিন্তু বেঁচে থেকে কী করব?
আমি আমার জীবনে কোনো বড় কাজ করিনি। কোনো মানুষকে সত্যিকারের সাহায্য করিনি। কোনো পরিবর্তন আনিনি।
আমি শুধু বেঁচে থেকেছি। খেয়েছি, ঘুমিয়েছি, কাজ করেছি।
এটাই কি জীবন?
হ্যাপি এসে বসে। “কেমন লাগছে?”
“ঠিক আছে।”
আমি তাকে বলতে পারি না যে আমি ভাবছি আমার জীবনের অর্থহীনতা নিয়ে।
আরাশ এসেছে। আমার হাত ধরে বসে।
“বাবা, তুমি কবে বাড়ি আসবে?”
“শীঘ্রই।”
আরাশের স্পর্শে আমি বুঝি, হয়তো এটাই জীবনের অর্থ। কারো হাত ধরে থাকা। কারো প্রয়োজন হওয়া।
আমি অর্থহীন নই। আমি হ্যাপি আর আরাশের প্রয়োজন।
হয়তো এইটুকুই যথেষ্ট।
বিখ্যাত হওয়ার দরকার নেই। পৃথিবী বদলানোর দরকার নেই।
শুধু কারো কাছে প্রয়োজনীয় থাকাই জীবনের অর্থ।
আমি চোখ বন্ধ করি। ভালো লাগে।
একটু ভাবনা রেখে যান