ব্লগ

একে একে বিদায়ের মিছিল

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

মৃদুলের মৃত্যুর খবর পেলাম ফেসবুক থেকে। হার্ট অ্যাটাক। মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে।

আমার ফোনবুকে এখন অনেক নম্বর আছে যেগুলোতে কেউ ধরবে না।

জামিউল গত বছর ক্যানসারে মারা গেছে। সাইফুল স্ট্রোক করে অর্ধেক অচল। আমার স্কুলের সেরা বন্ধু রাহুল কিডনি রোগে ভুগছে।

আমি হিসাব করি। আমার কৈশোর-যৌবনের কুড়িজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন। তিনজন গুরুতর অসুস্থ।

এই হার চলতে থাকলে পরের দশ বছরে আরো কতজনকে হারাব?

আমি ফোনে যাকে ডাকব, তার বউ বলবে, “উনি গত মাসে…”

আমি কার সাথে আড্ডা দেব? কার সাথে পুরনো দিনের গল্প করব?

মৃদুলের সাথে শেষ কথা হয়েছিল ছয় মাস আগে। সে কানাডা থেকে ফোন করেছিল। বলেছিল, “দেশে এলে দেখা হবে।”

আর দেখা হবে না।

আমি ভাবি, বন্ধুত্বের এই মরসুম কি জীবনের স্বাভাবিক অংশ?

আমার বাবার বন্ধুরাও কি এভাবেই একে একে চলে গিয়েছিলেন?

আমার মনে পড়ে মৃদুলের সাথে প্রথম দেখার কথা। কলেজের প্রথম দিন। আমরা একসাথে ক্যান্টিনে চা খেয়েছিলাম।

এখন সেই চা-এর স্বাদও মনে নেই।

আমি আরাশকে বলি, “তুই তোর বন্ধুদের ভালো রাখিস। একদিন শুধু তারাই থাকবে।”

আরাশ বোঝে না। তার কাছে বন্ধুত্ব মানে আনন্দ। আমার কাছে এখন বন্ধুত্ব মানে ক্ষতি।

যত ভালোবাসব, তত হারানোর ভয়।

আমি নতুন বন্ধু বানাতে ভয় পাই। কারণ জানি একদিন তাদেরও হারাতে হবে।

বার্ধক্যের সবচেয়ে নিষ্ঠুর দিক এটা। তুমি একা হতে থাক। প্রতিদিন একটু একটু করে।

শেষে শুধু তুমি থাকবে। আর তোমার স্মৃতি।

মৃত বন্ধুদের স্মৃতি।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *