আজ টিভিতে দেখলাম পীর সাহেব মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলছেন, “আমার মুরিদেরা যে দলকে ভোট দেবে, সেই দল জিতবে।” নিচে হাজার হাজার মানুষ হাততালি দিচ্ছে।
আমি হতবাক। ধর্মীয় নেতা রাজনীতি করবেন?
পরের দিন খবরে দেখলাম ঐ পীর সাহেবের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা এসেছে। দাতা অজ্ঞাত।
হ্যাপিকে বললাম, “ধর্ম আর রাজনীতি কি এক হয়ে গেল?” হ্যাপি বলল, “এখন সব কিছুর দাম আছে।”
অফিসে জামিউর ভাইয়ের সাথে কথা হলো। উনি বললেন, “হায়দার, তুমি এখনো বুঝলা না? এই দেশে পীর-ফকিরদের ভোট ব্যাংক আছে। রাজনীতিকরা সেটা কিনে নেয়।”
“কিন্তু এটা কি ঠিক?” জিজ্ঞেস করলাম।
“ঠিক-বেঠিক দেখে কে? সবাই নিজের স্বার্থ দেখে।”
রাতে ইন্টারনেটে দেখি আরো অনেক খবর। কোনো পীর সাহেব সরকারি দলের পক্ষে, কোনো পীর সাহেব বিরোধী দলের পক্ষে। যেন ধর্মও দল বেঁধে লড়ছে।
আরাশ জিজ্ঞেস করল, “আব্বু, পীর সাহেবরা কি রাজনীতিক?” আমি বলতে পারলাম না যে, অনেকেই এখন দুইটা পেশাই করেন।
মনে পড়ে বাবার কথা। উনি বলতেন, “যে আল্লাহর কথা বলে, তার কাজ হলো মানুষকে সত্যের পথ দেখানো। রাজার দালালি না।”
একটা ভিডিওতে দেখলাম এক পীর সাহেব বলছেন, “আমাদের দলের নেতা আল্লাহর প্রিয়।” পরের মাসে ঐ দল হেরে গেলে বললেন, “আল্লাহর ইচ্ছা।”
আল্লাহর ইচ্ছা কি এত দ্রুত বদলায়? নাকি পীর সাহেবের মত বদলায়?
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবি। যারা মানুষকে আল্লাহর পথ দেখানোর কথা, তারা যদি রাজনীতিকদের পথ দেখায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কথা শুনবে?
আমার এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবও নির্বাচনের আগে বিশেষ দলের জন্য দোয়া করেন। তার এই দোয়ার দাম কত?
রাতে দোয়া করার সময় ভাবি – হে আল্লাহ, তোমার নামে যারা রাজনীতি করে, তাদের কি তুমি পছন্দ করো? নাকি তোমার কাছে ধর্ম আর রাজনীতি আলাদা?
মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে? যে ধর্ম বলে নাকি যে রাজনীতি বলে? নাকি দুইটাই এখন এক হয়ে গেছে?
একটু ভাবনা রেখে যান