ব্লগ

বিকৃত আয়না

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আজ সকালে জামিউরের ফোন এলো। “হায়দার ভাই, আমার একটা কাজ আছে।” আমি জানি এই ‘কাজ’ মানে সে আমার কাছ থেকে কিছু চায়। হয় টাকা, নয় connection, নয় কোনো সুবিধা।

দশ বছর আগে জামিউর ফোন করত শুধু আড্দা দিতে। “কেমন আছিস? চা খাবি?” এখন প্রতিটা ফোনের পেছনে একটা agenda।

আমার ভিতরে একটা অ্যাপ খুলে গেল যার নাম “বন্ধুত্বের মৃত্যুর তারিখ অজানা”।

আরাশকে দেখি তার বন্ধু রিয়াদের সাথে ঝগড়া করছে। “কী হয়েছে?”

“বাবা, রিয়াদ আমার drawing copy করে school-এ নিয়ে গেছে। বলেছে ও এঁকেছে।”

“তুই কী করবি?”

“আমি ওর সাথে আর কথা বলব না।”

আমি ভাবলাম। এই দুই বন্ধু কতদিন একসাথে খেলেছে। একই টিফিন ভাগাভাগি করেছে। আর এখন একটা drawing নিয়ে বন্ধুত্ব শেষ।

হ্যাপির সাথে রাতে কথা বলছিলাম। “আমাদের ছোটবেলায় কি বন্ধুত্ব এমন complicated ছিল?”

“না। তখন বন্ধুত্ব মানে ছিল together থাকা। এখন মানে useful থাকা।”

“কবে থেকে এই পরিবর্তন?”

হ্যাপি একটু ভেবে বলল, “হায়দার, হয়তো আমরা যখন বুঝতে শুরু করলাম যে life একটা competition। তখন থেকেই বন্ধুরা competitor হয়ে গেল।”

আমার মনে পড়ল আমার childhood friend সোহেলের কথা। আমরা একসাথে খেলতাম, পড়তাম। কিন্তু যখন আমি SSC-তে তার চেয়ে ভালো result করলাম, তখন থেকে সে আলাদা হয়ে গেল। ঈর্ষা, competition এসে বন্ধুত্বকে বিষিয়ে দিল।

পরদিন আরাশকে বললাম, “তুই রিয়াদের সাথে কথা বলবি না?”

“না। ও dishonest।”

“কিন্তু ও তো তোর best friend ছিল।”

আরাশ বলল, “ছিল বাবা। এখন আর নেই। আমি জানতামই না ও এমন।”

আমি বুঝলাম। আরাশও সেই পথেই যাচ্ছে যেটায় আমরা গেছি। একটা ভুল দেখলেই পুরো মানুষটাকে reject করে দেওয়া।

নামাজ পড়ে ভাবছিলাম। আল্লাহর সাথে আমার বন্ধুত্ব কি এমন conditional? আমি পাপ করলে তিনি কি আমাকে ছেড়ে দেন? না। তিনি তওবার সুযোগ দেন।

আরাশকে বললাম, “তুই যদি রিয়াদকে ক্ষমা করে দিস?”

“কেন? ও তো ভুল করেছে।”

“তুই কি কখনো ভুল করিসনি?”

আরাশ চুপ হয়ে গেল।

“দেখ, বন্ধুত্বের মানে হলো একসাথে ভুল করা, একসাথে শিখে নেওয়া। Perfect মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করতে গেলে তোর কোনো বন্ধু থাকবে না।”

পরদিন দেখলাম আরাশ রিয়াদের সাথে আবার খেলছে। “কী হলো?”

“বাবা, ও sorry বলেছে। আর ও বলেছে আমার permission ছাড়া আর কিছু করবে না।”

আমার চোখে জল এসে গেল। শিশুরা এখনও জানে কীভাবে ক্ষমা করতে হয়।

কিন্তু আমরা বড়রা সেই নিষ্কলুষতা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা হিসাব করি – এই বন্ধু আমার কী কাজে লাগবে? সে কি আমাকে এগিয়ে নিতে পারবে?

বন্ধুত্বের নিষ্কলুষতা হারিয়ে গেছে যেদিন আমরা বন্ধুদের দেখতে শুরু করেছি resources হিসেবে, মানুষ হিসেবে নয়।

আমি জামিউরকে ফোন করলাম। “কেমন আছিস? শুধু জানতে চাইলাম।”

সে অবাক হয়ে বলল, “কোনো কাজ নেই?”

“না। শুধু বন্ধু হিসেবে ফোন করলাম।”

হয়তো দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু চেষ্টা করতে তো দোষ নেই।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *