ব্লগ

বীমার বোঝায় নুয়ে পড়া সংসার

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

বীমা কোম্পানির চিঠি এসেছে। প্রিমিয়াম বেড়েছে। বছরে এখন পঞ্চাশ হাজার টাকা।

আমার মাসিক আয় ত্রিশ হাজার। বছরে তিন লক্ষ ষাট হাজার।

এর মধ্যে পঞ্চাশ হাজার শুধু স্বাস্থ্য বীমায়।

আমি হ্যাপিকে বলি, “বীমা বন্ধ করে দিই?”

“তাহলে অসুখ-বিসুখ হলে কী করব?”

আমি উত্তর দিতে পারি না।

গত বছর আমার হার্টের টেস্টে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। বীমা না থাকলে সেই টাকা কোথা থেকে আনতাম?

কিন্তু এই পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে গিয়ে আমাদের পারিবারিক বাজেট তছনছ।

আমি হিসাব করি। বাড়ি ভাড়া বারো হাজার। আরাশের স্কুল ও কোচিং আট হাজার। বাজার-সদাই দশ হাজার। মোট ত্রিশ হাজার।

বীমার টাকা দিতে গেলে মাসে আরো চার হাজার দরকার।

আমি কোথা থেকে আনব?

আমি আরাশের কোচিং বন্ধ করার কথা ভাবি। কিন্তু তাতে তার পড়াশোনার ক্ষতি।

আমি ছোট বাড়িতে ওঠার কথা ভাবি। কিন্তু এখানেও তো কম ভাড়া।

আমি নিজের খাওয়া-দাওয়া কমানোর কথা ভাবি। কিন্তু এখনই তো খুব কম খাই।

শেষ উপায় হিসেবে হ্যাপির গয়নাপত্র বিক্রি করার কথা ভাবি।

“হ্যাপি, তোমার সোনার চেইনটা…”

“বুঝেছি। বিক্রি করে দিও।”

হ্যাপি বিনা প্রতিবাদে রাজি।

আমি আরো অপরাধী বোধ করি।

আমার অসুখের ভয়ে আমরা আর্থিক দুর্দশায় পড়েছি।

আমি ভাবি, স্বাস্থ্য বীমা কি সত্যিই নিরাপত্তা? নাকি আরেক ধরনের চাপ?

কিন্তু বন্ধ করতেও পারি না। কারণ বয়স বাড়ার সাথে অসুখের সম্ভাবনা বাড়ে।

এই দোটানার মধ্যেই বাঁচতে হবে।

স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা, নাকি আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য?

দুটোই চাই, কিন্তু দুটোই পাই না।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *