“Please join the meeting with your camera on”—এই বার্তা দেখে আমার বুকটা ধক করে উঠল।
আমার পেছনে কী আছে? একটা ভাঙা দেয়াল, যেখানে প্লাস্টার খসে পড়েছে। হ্যাপির শাড়ি শুকাতে দেওয়া একটা দড়ি। বছর তিনেক আগের একটা ক্যালেন্ডার। আর আরাশের খেলনা গাড়ি, যেটা গতকাল থেকে মেঝেতে পড়ে আছে।
Background Blur চালু করলাম।
হঠাৎ আমার পেছনটা একটা নরম, অস্পষ্ট জগতে পরিণত হলো। যেন আমি কোনো পেশাদার অফিসে বসে আছি। যেন আমার জীবনে কোনো অগোছালো কিছু নেই।
মিটিং শুরু হলো। সবার পেছনে দেখি সুন্দর সব background। কেউ bookshelf, কেউ plant, কেউ নিখুঁত white wall। আমি ভাবলাম, এদের জীবনও কি এত নিখুঁত? নাকি এরাও blur করেছে?
“Haidar, your thoughts on this?”
আমি কথা বলতে শুরু করলাম। কিন্তু মনের একটা অংশ ভাবছিল—আমি কি শুধু আমার background hide করছি? নাকি আমার আসল জীবনটাই hide করছি?
মিটিং চলাকালীন আরাশ একবার এসে দাঁড়াল পাশে। blur এর মধ্যেও তার ছায়া দেখা গেল। আমি তাকে hand gesture দিয়ে চলে যেতে বললাম। সে বুঝল না কেন তাকে লুকিয়ে রাখতে হবে।
“Sorry, slight technical issue,” বললাম camera বন্ধ করে।
কিন্তু technical issue ছিল না। আসল সমস্যা ছিল, আমি আমার actual life দেখাতে লজ্জা পাচ্ছিলাম।
মিটিং শেষে ক্যামেরা বন্ধ করতে গিয়ে দেখি, blur off হয়ে গেছে। আমার আসল ঘরটা screen এ দেখাচ্ছে। খোলামেলা, সরল, একটু অগোছালো—কিন্তু সত্যি।
ভাবলাম, কোনটা বেশি সুন্দর? Blur করা নিখুঁত background, নাকি এই সত্যিকারের অগোছালো জীবন?
হ্যাপি এসে জিজ্ঞেস করল, “মিটিং কেমন গেল?”
“ভালো,” বললাম। কিন্তু বলতে পারলাম না যে, পুরো সময় আমি একটা মুখোশ পরে ছিলাম।
আমি কি সবসময় blur mode এ বাঁচব? নাকি কখনো সাহস করে real background দেখাবো?
পরেরবার blur বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম। যারা আমার সাথে কাজ করবে, তারা দেখুক আমি কে। দেখুক আমার আসল জীবন।
তারপর ভাবলাম—আমার জীবনটাও তো blur করা। আমি নিজেই জানি না কোনটা আসল, কোনটা edited version।
একটু ভাবনা রেখে যান