আয়নায় তাকিয়ে দেখি, আমার চুলে পাক ধরেছে। আমার বয়স ৩৯। কিন্তু দেখতে লাগছে ৪৯।
রিতু আপা অফিসে বলেছিলেন, “হায়দার, তুমি অনেক বুড়ো হয়ে গেছ।” আমি হেসে বলেছিলাম, “বয়স হচ্ছে।” কিন্তু ভিতরে জানি, শুধু বয়স নয়।
কাজের চাপে চুল পেকেছে। টেনশনে কপালে ভাঁজ পড়েছে। স্বপ্ন ভাঙার কারণে চোখের তলায় কালি। আমি বুড়ো হইনি, আমাকে বুড়ো করা হয়েছে।
রিটায়ারমেন্ট আর ২১ বছর পরে। কিন্তু এই হিসাবে আরো ১০ বছর পরেই আমি দেখতে ৬০ বছরের মতো লাগব।
সকালে উঠতে কষ্ট হয়। রাতে ঘুম আসে না। দিনে ক্লান্ত লাগে। এগুলো কি ৩৯ বছর বয়সের লক্ষণ?
হ্যাপি বলে, “তুমি এত চিন্তা করো কেন?” আমি বলি, “চিন্তা না করলে সংসার চলে?” হ্যাপি চুপ থাকে।
আরাশ একদিন বলেছিল, “বাবা, তুমি আমার দাদার মতো দেখতে।” শুনে মন খারাপ হয়েছিল। আমি তো তার বাবা। দাদা নই।
অফিসে নতুন ছেলেরা আসে। ২৫-২৬ বছর বয়স। তাদের চোখে স্বপ্ন। মুখে হাসি। আমি তাদের দেখে মনে করতে পারি না, আমিও কি কখনো তাদের মতো ছিলাম?
আমার বাবা যখন মারা যান, তার বয়স ছিল ৫৮। আমার এখন ৩৯। আরো ১৯ বছর পরে আমি তার বয়সে পৌঁছাব। কিন্তু এখনই তার মতো দেখতে লাগছি।
এই হিসাবে আমি আমার মৃত্যুর আগেই মরে যাব।
রাতে বিছানায় শুয়ে ভাবি, কোথায় হারিয়ে গেল আমার যৌবন? কোথায় গেল সেই দিনগুলো যখন সকালে উঠতে ভালো লাগত?
আমি কি ভুল পথে হেঁটেছি? নাকি এটাই জীবন? সবাই কি এভাবে বুড়ো হয়?
মাঝে মাঝে ভাবি, আমি যদি চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্য কিছু করি? লেখালেখি করি? কিন্তু তাহলে সংসার চলবে কিভাবে?
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমি যেন সময়ের চেয়ে এগিয়ে বুড়ো না হই। যেন আরাশ যখন বড় হবে, আমি তখনো তার সাথে খেলতে পারি।
কিন্তু প্রতিদিন সকালে আয়নায় তাকিয়ে দেখি, আরো একটা নতুন চুল পেকেছে।
সময় যেন আমার চেয়ে দ্রুত দৌড়াচ্ছে।
একটু ভাবনা রেখে যান