অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছি। তিনবার ক্যানসেল করেছি। আজ চতুর্থবার।
ক্লিনিকের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। ভেতরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না।
মনে হচ্ছে – ভেতরে গেলেই সবাই জানবে আমার সমস্যা আছে। সবাই ভাববে আমি একটা mental patient।
যদিও জানি এটা ভুল ভাবনা। থেরাপি নেওয়া কোনো লজ্জার ব্যাপার নয়। কিন্তু মাথা মানছে না।
দশবার ভেবেছি – আমার কি সত্যিই প্রয়োজন আছে? নাকি আমি অতিরিক্ত ভাবছি?
অন্যরা তো কোনো থেরাপি ছাড়াই বাঁচে। তাহলে আমার কেন লাগবে?
রিসেপশনে গিয়ে নাম বলি। রিসেপশনিস্ট বলে, “৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।”
ওয়েটিং রুমে বসি। চারপাশে আরো মানুষ। তারাও কি আমার মতো?
একজন ভদ্রলোক newspaper পড়ছেন। দেখতে খুবই normal। তার কি কোনো সমস্যা আছে?
একটা মেয়ে ফোনে কথা বলছে। হাসছে। তার মুখে কোনো tension নেই। সে কেন এখানে?
হয়তো আমিই একমাত্র যার আসলেই mental problem আছে।
নার্স ডাকে – “মি. হায়দার, এবার আপনার পালা।”
উঠে দাঁড়াই। পা কাঁপছে। হার্টবিট বেড়ে গেছে।
থেরাপিস্টের ঘরে ঢুকি। একজন মধ্যবয়সী মহিলা। খুব friendly দেখতে।
“বসুন,” বলেন। একটা আরামদায়ক চেয়ার দেখিয়ে দেন।
আমি চেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি। বসতে পারি না।
“কী হয়েছে? বসুন,” বলেন আবার।
আমি বলি, “আমি… আমি জানি না আমার এখানে আসা উচিত হয়েছে কি না।”
তিনি হাসেন। “এটা একটা স্বাভাবিক feeling। প্রথমবার সবারই এমন লাগে।”
কিন্তু আমার কাছে এটা স্বাভাবিক মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয় আমি একটা big mistake করছি।
“আমার কি সত্যিই therapy লাগবে? আমি তো normal একটা জীবন যাপন করছি।”
তিনি বলেন, “Normal মানে কী? আপনি কি খুশি আপনার জীবনে?”
প্রশ্নটা শুনেই আমার গলা শুকিয়ে যায়। খুশি? আমি কি খুশি?
“আমি জানি না,” বলি।
“বসুন,” বলেন আবার। “আমরা কথা বলি।”
আমি চেয়ারে বসি। কিন্তু edge-এ বসি। যেন যেকোনো সময় উঠে যাব।
“আপনি কেন এসেছেন?”
সহজ প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর দিতে পারি না। কারণ জানি না কেন এসেছি।
“আমার মনে হয় আমার সাথে কিছু একটা সমস্যা আছে।”
“কী ধরনের সমস্যা?”
“আমি জানি না। সবসময় একটা অস্বস্তি লাগে। মনে হয় আমি ভুল জায়গায় আছি।”
কথাটা বলতেই চোখ ভিজে আসে। এত সহজ কথা, কিন্তু বলতে এত কষ্ট।
তিনি tissue এগিয়ে দেন। “এটা স্বাভাবিক। কান্না আসতেই পারে।”
কিন্তু আমার কাছে এটা স্বাভাবিক মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয় আমি weak।
“আমি একজন grown-up মানুষ। আমার এখানে এসে কান্না করা উচিত নয়।”
“কেন? Grown-up মানুষরা কি কাঁদে না?”
প্রশ্নটা আমাকে ভাবায়। Grown-up মানুষরা কি কাঁদে?
আমি দেখেছি বাবা কখনো কাঁদেননি। অন্তত আমার সামনে। তাহলে আমি কেন কাঁদব?
“আমি ভাবতাম strong মানুষরা কাঁদে না।”
“আপনি কি মনে করেন এখানে আসা weakness-এর চিহ্ন?”
হ্যাঁ। আমি সেটাই মনে করি। এজন্যই এত দেরি করেছি।
“হ্যাঁ,” বলি সৎভাবে।
তিনি বলেন, “আসলে উল্টো। নিজের সমস্যা স্বীকার করা strength-এর চিহ্ন।”
কথাটা শুনে অবাক হই। আমি ভেবেছিলাম এটা weakness।
“অনেকেই এই ভুল ভাবনা রাখে। তাই therapist-এর কাছে আসতে চায় না।”
“তাহলে অন্যরাও আমার মতো?
“অবশ্যই। আপনি একা নন।”
এই কথাটা শুনে একটা relief লাগে। আমি একা নই।
পুরো session-এ আমি chiar-এর edge-এ বসে থাকি। কিন্তু কথা বলি।
Session শেষে বের হয়ে আসি। মনে হয় একটা ভার নেমেছে।
পরের appointment নিয়ে আসি।
হয়তো এই চেয়ারে বসাটা weakness নয়। Strength.
হয়তো এই কথা বলাটা shame নয়। Courage.
তবুও পরের session-এ গিয়েও আমি chair-এর edge-এ বসব।
কারণ আমার এখনো মনে হয় আমি belong করি না এখানে।
কিন্তু এই feeling নিয়েই আমি আসতে থাকব।
যতদিন না এই চেয়ারটা আমার comfortable লাগে।
একটু ভাবনা রেখে যান