“একটু চেখে দেখি।”
এই কথা বলে আমি এক চামচ খিচুড়ি মুখে দিলাম।
হ্যাপি রান্না করে রেখেছে কালকের জন্য। আমি শুধু দেখছিলাম কেমন হয়েছে।
“খুব ভালো,” আমি বললাম। “আরো একটু চেখে দেখি।”
আরেক চামচ।
“নুন ঠিক আছে কিনা দেখি।”
আরেক চামচ।
“তেল কেমন দিয়েছে দেখি।”
আরেক চামচ।
এভাবে “চেখে দেখা” চলতে থাকল। পনের মিনিট পর দেখি অর্ধেক খিচুড়ি শেষ।
হ্যাপি এসে দেখল।
“কী করেছ এসব?”
“চেখে দেখছিলাম।”
“চেখে দেখতে দেখতে অর্ধেক খিচুড়ি খেয়ে ফেলেছ!”
আমি লজ্জা পেলাম। সত্যিই তো। চাখতে গিয়ে পেট ভরে গেছে।
কিন্তু এই ব্যাপারটা আমার সাথে প্রায়ই হয়।
রান্নাঘরে গিয়ে “একটু দেখি কী রান্না হয়েছে” বলে ঢুকি। তারপর “চেখে দেখি” বলে খেতে শুরু করি।
শেষমেশ খাওয়ার সময় আর খিদে থাকে না।
“আমি কেন এমন করি?”
আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম।
কারণ বিশ্লেষণ করে দেখলাম – “একটু চেখে দেখি” একটা অজুহাত।
আমি আসলে খেতে চাই। কিন্তু সরাসরি বলতে পারি না – “আমার খিদে লেগেছে, খাব।” কারণ হয়তো খাবার সময় হয়নি। বা পরিমাণ মতো খেয়েছি।
তাই “চেখে দেখি” অজুহাত দিয়ে খাই।
এটা নিজের সাথে একটা প্রতারণা।
পরদিন আবার হলো। হ্যাপি পোলাও রান্না করেছে।
“একটু চেখে দেখি কেমন হয়েছে।”
এক চামচ। দুই চামচ। তিন চামচ।
আরাশ এসে বলল, “বাবা, তুমি তো খাচ্ছই।”
“খাচ্ছি না। চেখে দেখছি।”
“চেখে দেখা আর খাওয়ার পার্থক্য কী?”
আমি থমকে গেলাম। আরাশের প্রশ্ন একদম যুক্তিসঙ্গত।
“পার্থক্য হলো… পার্থক্য হলো…” আমি বলতে পারলাম না।
“আসলে কোনো পার্থক্য নেই,” আরাশ বলল। “তুমি খাচ্ছই।”
আমি বুঝলাম – “চেখে দেখা” একটা মানসিক খেলা। আমি নিজেকে বোকা বানাই।
যখন বলি “চেখে দেখি”, তখন মনে হয় আমি কোনো পাপ করছি না। আমি খাচ্ছি না, শুধু পরীক্ষা করছি।
কিন্তু একটা চামচ, দুইটা চামচ, তিনটা চামচ করতে করতে পুরো থালা শেষ হয়ে যায়।
“এটা আমার কোন মানসিক সমস্যা?”
আমি ভাবলাম – হয়তো এটা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা। আমি খাবারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
কিন্তু “চেখে দেখি” বলে মনে করি আমি নিয়ন্ত্রণ করছি।
তৃতীয়বার এমন হওয়ার পর আমি একটা কৌশল করলাম।
রান্নাঘরে গিয়ে বললাম, “আমি খাব।”
সরাসরি। কোনো অজুহাত নয়।
“একটু খিদে লেগেছে। একটা প্লেটে নিয়ে খাব।”
প্লেটে নিয়ে বসে খেলাম। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ। শেষ হলে আর খেলাম না।
এইভাবে খেতে আরো ভালো লাগল।
কারণ আমি নিজের সাথে সৎ ছিলাম।
হ্যাপি বলল, “তুমি এখন ভালো করছো। আগে চেখে দেখার নামে সব গোলমাল করে ফেলতে।”
আরাশ বলল, “বাবা, ‘চেখে দেখা’ একটা মিথ্যা ছিল?”
“হ্যাঁ,” আমি স্বীকার করলাম। “নিজের কাছে মিথ্যা।”
“কেন মিথ্যা বলতে?”
“কারণ আমি লজ্জা পেতাম। ভাবতাম, খাওয়ার সময় না হলে খাওয়া পাপ।”
“কিন্তু খিদে লাগলে খাওয়া তো স্বাভাবিক।”
“ঠিক। কিন্তু আমি ভাবতাম অস্বাভাবিক।”
এখন আমি “চেখে দেখি” বলি না। বলি “আমি খাব।” বা “আমার খিদে লেগেছে।”
সরল। সৎ। স্বাভাবিক।
একটু ভাবনা রেখে যান