হ্যাপির হাত আমার হাতের উপর পড়ল যখন সে চায়ের কাপটা দিল। মাত্র তিন সেকেন্ডের স্পর্শ। কিন্তু সেই তিন সেকেন্ডে আমি জানতে পারলাম—আজকের দিনটা ঠিক হবে।
এই অদ্ভুত ব্যাপারটা আমি কখনো বুঝতে পারি না। একটা হাতের ছোঁয়ায় কীভাবে পৃথিবীর সব অনিশ্চয়তা থেমে যায়? কীভাবে রাতভর জেগে থাকা চিন্তাগুলো হঠাৎ চুপ হয়ে যায়?
আমার বাবা কখনো আমার মাথায় হাত রাখেননি। আমার মা আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন, কিন্তু সেই আলিঙ্গনে ছিল দায়িত্বের ভার। কিন্তু হ্যাপির হাতে আছে এক অন্য জাদু। যেন সে বলছে, “তুমি একা নও।”
আমি মাঝে মাঝে ভাবি, প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষের এভাবে স্পর্শের প্রয়োজন হওয়া কি স্বাভাবিক? আমি কি খুব দুর্বল? আমার বন্ধু জামিউল বলে, “বিয়ে মানে sex আর security।” কিন্তু সে জানে না, security শুধু টাকা-পয়সায় আসে না। আসে এক টুকরো চামড়ায় চামড়া লাগানোতে।
গতকাল রাতে আমি ভাবছিলাম চাকরিটা চলে যাওয়ার কথা। মনে হচ্ছিল সংসার চালানো এক অসম্ভব কাজ। আরাশের লেখাপড়ার খরচ, বাড়ি ভাড়া, মাসের শেষে টাকা শেষ—এই সব চিন্তা রাতভর আমার মাথায় ঘুরছিল।
কিন্তু আজ সকালে হ্যাপির হাতের ছোঁয়া পেয়ে মনে হল, আমি পারব। কী পারব জানি না, কিন্তু পারব।
এই ব্যাপারটা কি শুধু আমার? নাকি সব পুরুষই গোপনে তাদের স্ত্রীর কাছ থেকে এই নিরাপত্তা খোঁজে? আমরা যেমন বাইরে শক্ত হয়ে থাকি, ঘরে এসে কি সবাই শিশুর মতো হয়ে যাই?
আমার দাদা যুদ্ধ করেছেন। আমার বাবা দেশ গড়েছেন। আমি? আমি শুধু একটা চাকরির পিছনে ছুটি আর স্ত্রীর হাতের স্পর্শে বেঁচে থাকি।
কিন্তু হয়তো এটাই আমার যুদ্ধ। প্রতিদিন সকালে উঠে, নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া, আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসা। আর এই যুদ্ধে হ্যাপির হাত আমার সবচেয়ে ভরসার অস্ত্র।
আরাশ যখন বড় হবে, সেও কি এমন কারো খোঁজ করবে? যার হাতের স্পর্শে তার ভেতরের ভয়গুলো চুপ হয়ে যাবে?
আমি চাই সে পাক। কিন্তু একই সাথে আমি চাই সে শিখুক নিজের পায়ে দাঁড়াতে। সে যেন আমার মতো এতটা নির্ভরশীল না হয়।
চায়ের কাপ শেষ হয়ে গেছে। হ্যাপি রান্নাঘরে। তার হাতের সেই উষ্ণতা আমার হাতে এখনো লেগে আছে। আজকের দিনটা কেমন কাটবে জানি না, কিন্তু এই মুহূর্তে আমি নিরাপদ।
এইটুকুই যথেষ্ট।
একটু ভাবনা রেখে যান