আরাশ আমাকে বাথরুমে নিয়ে যায়। আমার কোমরের ব্যথা এত বেড়েছে যে একা হাঁটতে পারি না।
“ধীরে বাবা। আমার হাত ধরে রাখ।”
উনিশ বছরের ছেলে তার বাবাকে হাঁটতে সাহায্য করছে।
আমি লজ্জা পাই।
আরাশ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তার নিজের জীবন আছে, বন্ধু আছে, স্বপ্ন আছে।
কিন্তু আমার জন্য সব ছেড়ে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে।
“আরাশ, তুই ক্লাসে যা। আমি পারব।”
“না বাবা। তুমি একা থাকতে পার না।”
আমার বুকে একটা ভারী পাথর পড়ল।
আমি আরাশের বোঝা হয়ে গেছি।
আমি যে বাবা একসময় আরাশকে কোলে নিয়ে ঘুরাতাম, আজ সেই আরাশ আমাকে টয়লেটে নিয়ে যায়।
জীবনের কী নিষ্ঠুর বিপরীতমুখী যাত্রা।
আমি ভাবি, আমার বাবা যখন অসুস্থ হয়েছিলেন, আমিও কি এমনই করতাম?
না। আমি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতাম। মাঝে মাঝে দেখা করতে যেতাম।
আরাশ আমার চেয়ে ভালো সন্তান।
কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমি তার কাঁধে বোঝা হব।
আরাশের বন্ধুরা এসে দেখে যায় সে তার অসুস্থ বাবার সেবা করছে। তারা কী ভাবে?
তারা কি ভাবে আরাশ বাবার দাস?
আমি একটা ওল্ড হোমের বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম পত্রিকায়। “আপনার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সেবায় আমরা আছি।”
আমি কি সেখানে যাব?
না। আমার মনে হয় আরাশ যেতে দেবে না।
কিন্তু আমি চাই না আরাশের জীবন আমার অসুস্থতায় নষ্ট হোক।
আমি চাই সে বিয়ে করুক, নিজের পরিবার নিয়ে সুখে থাকুক।
আমার জন্য যেন তার জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়গুলো নষ্ট না হয়।
“আরাশ, তুই বিয়ে কবে করবি?”
“এখনো ভাবিনি বাবা।”
“কেন? তোর বয়স তো হয়েছে।”
“তুমি অসুস্থ। তোমাকে রেখে কীভাবে বিয়ে করব?”
আমার চোখে পানি এসে যায়।
আমি আরাশের জীবনের বাধা হয়ে গেছি।
এর চেয়ে কষ্টকর আর কিছু নেই।
একটু ভাবনা রেখে যান