২৫ বছর আগের ছবি।
তার মুখে কোনো রেখা নেই। চোখের কোণে কোনো ভাঁজ নেই।
আমি সেই মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। আর বুকের ভিতর কিছু একটা কেঁদে উঠছে।
এই ছবির মেয়েটি কে?
এ কি আমার স্ত্রী? নাকি কোনো অচেনা মানুষ?
সময় একটা নিষ্ঠুর শিল্পী।
আমাদের মুখে প্রতিদিন একটা করে দাগ কাটে।
আমরা খেয়ালও করি না।
কিন্তু ছবি খেয়াল রাখে।
ছবি মিথ্যা বলে না।
ছবি বলে, তুমি বুড়ো হয়েছ।
তোমার সৌন্দর্য চলে গেছে।
তোমার যৌবন শেষ।
আমি জানালায় তার প্রতিবিম্ব দেখি।
৪৫ বছর বয়সের একটা নারী।
তার চুলে পাক। গালে ভাঁজ। কপালে চিন্তার দাগ।
এই মুখটা কি সুন্দর?
আমার চোখে এখনো সুন্দর।
কিন্তু পৃথিবীর চোখে?
সমাজ বলে, নারীর সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী।
২৫ বছর পর সে আর সুন্দর নয়।
কিন্তু আমি বলি, সে আরো সুন্দর।
কারণ এই মুখে আমাদের সংগ্রামের গল্প আছে।
এই চোখে আমাদের কষ্টের ইতিহাস আছে।
এই হাতে আমাদের স্বপ্নের ছাপ আছে।
ছবির মেয়েটি ছিল অজানা।
এখনকার নারীটি জানা।
তার প্রতিটি রেখা আমার পরিচিত।
প্রতিটি দাগ আমার সাক্ষী।
কিন্তু সমাজ এই সৌন্দর্য দেখে না।
সমাজ শুধু যৌবনের সৌন্দর্য দেখে।
আমি মাঝে মাঝে ভাবি—আমিও কি এই নিয়মে বিশ্বাস করি?
আমিও কি চাই সে ২৫ বছর আগের মতো দেখতে হোক?
আমার এই ইচ্ছা কি তার প্রতি অবিচার?
আয়নার সামনে আমি নিজেকে দেখি।
আমারও চুল পাকা। মুখে ভাঁজ।
আমিও বুড়ো হয়েছি।
কিন্তু পুরুষের বুড়ো হওয়া আলাদা।
সমাজ বলে, পুরুষ বয়সে আরো আকর্ষণীয় হয়।
নারী শুধু কুৎসিত হয়।
এই অন্যায় নিয়ম আমি মানি?
নাকি প্রতিবাদ করি?
আমি ছবিটা বন্ধ করে দিলাম।
কারণ অতীতের সাথে তুলনা করা মানে বর্তমানকে অপমান করা।
আর বর্তমানই তো আমার জীবন।
অতীত শুধু স্মৃতি।
স্মৃতি সুন্দর। কিন্তু বাস্তবতা আরো সুন্দর।
কারণ বাস্তবতায় আমরা আছি।
ছবিতে আমরা ছিলাম।
একটু ভাবনা রেখে যান