ব্লগ

চোখ নামানো

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

বাড়িতে ঢুকে হ্যাপির দিকে তাকাতে পারলাম না। তার চোখে প্রশ্ন। আমার চোখে উত্তর নেই।

“কেমন গেল?” হ্যাপি জিজ্ঞেস করল।

আমি চুপ থাকলাম। মুখে কথা নেই। গলায় শব্দ নেই। চোখে পানি আসতে চাইছে কিন্তু আসছে না।

আরাশ দৌড়ে এলো। “বাবা, তুমি কি চাকরি পেলে?”

তার দিকেও তাকাতে পারলাم না। কী বলব? বলব যে তোমার বাবা আবার ব্যর্থ হয়েছে? বলব যে তোমার বাবা কিছুই পারে না?

ঘরে গিয়ে বিছানায় বসলাম। হাত দুটো কাঁপছে। পকেট থেকে চিঠিটা বের করলাম। “আমরা দুঃখিত।” এই একটা লাইন। তিনটা শব্দ। কিন্তু এই তিনটা শব্দ আমার পুরো পৃথিবী ভেঙে দিলো।

হ্যাপি এসে পাশে বসল। “কী হয়েছে?”

আমি চিঠিটা তার হাতে দিলাম। সে পড়ল। তারপর চুপ হয়ে গেল। কিছু বলল না। আমার হাত ধরল। হাতটা ঠান্ডা।

“চিন্তা করো না। আরেকটা পাবে।” হ্যাপি বলল।

কিন্তু তার গলার স্বরে আমি চিনতে পারলাম চিন্তা। সংশয়। ভয়। আরেকটা পাব? কয়টা চাকরি হারিয়েছি? কয়টা ইন্টারভিউতে ব্যর্থ হয়েছি?

আরাশ ঘরে এলো। “বাবা, কী হয়েছে? তুমি কাঁদছ কেন?”

আমি কাঁদছি? হাত দিয়ে মুখ ছুঁয়ে দেখলাম। ভেজা। কখন কেঁদেছি জানি না।

“কিছু হয়নি বেটা। বাবার চোখে ধুলো পড়েছিল।” হ্যাপি বলল।

ধুলো? হ্যাঁ, ধুলো। কত ধুলো আমার চোখে। কত ধুলো আমার জীবনে। কত ধুলো আমার স্বপ্নে।

রাতে ঘুমাতে পারলাম না। হ্যাপি আর আরাশ ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে। বাইরে অন্ধকার। ভিতরেও অন্ধকার।

কাল সকালে আরাশ স্কুলে যাবে। তার বন্ধুরা জিজ্ঞেস করবে, “তোমার বাবা কী করে?” সে কী বলবে? বলবে যে তার বাবা কিছুই করে না? নাকি মিথ্যা বলবে?

হ্যাপি কাল সবজি কিনতে যাবে। দোকানদার হয়তো বলবে, “টাকা কবে দেবেন?” হ্যাপি কী বলবে? বলবে যে তার স্বামী চাকরি হারিয়েছে? নাকি মিথ্যা বলবে?

আমি কী করব? কাল সকালে কোথায় যাব? কার কাছে যাব? কার কাছে হাত পাতব?

আল্লাহ, আমি কি এতোই অযোগ্য? আমি কি আমার পরিবারের যোগ্য নই? আমি কি শুধু একটা বোঝা?

রাত আরও গভীর হলো। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম। অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে। অন্ধকারও আমার দিকে তাকিয়ে।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *