গ্যাস বন্ধ করেছি কি না চেক করতে রান্নাঘরে গেলাম। দেখলাম বন্ধ। ভালো।
বিছানায় শুতে গেলাম। কিন্তু মনে হলো – সত্যিই কি বন্ধ? নাকি দেখতে ভুল হয়েছে?
আবার গেলাম। দেখলাম বন্ধ। একদম টাইট।
আবার বিছানায়। কিন্তু মনে হলো – হয়তো আমি ভুল নব ঘুরিয়েছি। হয়তো এখন আরো খোলা।
তৃতীয়বার গেলাম। দেখলাম বন্ধ।
কিন্তু এবার নতুন চিন্তা – হয়তো পাইপে leak আছে। হয়তো বন্ধ থাকলেও গ্যাস বের হচ্ছে।
শুঁকলাম। কোনো গন্ধ নেই। কিন্তু হয়তো আমার নাক ঠান্ডায় বন্ধ। গন্ধ পাচ্ছি না।
চতুর্থবার গেলাম। আরো ভালো করে শুঁকলাম। কিছু নেই।
কিন্তু মনে হলো – হয়তো গ্যাসের গন্ধ এত হালকা যে টের পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু বিস্ফোরণ হবে।
পঞ্চমবার গেলাম। নব আরো টাইট করলাম।
এবার শান্তি পেলাম। কিন্তু বিছানায় গিয়ে মনে হলো – আমি এত টাইট করেছি যে নব ভেঙে গেছে। এখন আর খোলাই যাবে না।
ষষ্ঠবার গেলাম। নব ঠিক আছে। কিন্তু এবার মনে হলো – হয়তো আমি ভুল চুলা দেখছি। দুটো চুলা আছে। একটা বন্ধ করেছি, অন্যটা খোলা।
দুটোই চেক করলাম। দুটোই বন্ধ।
কিন্তু মনে হলো – হয়তো তিনটা চুলা আছে। তৃতীয়টা দেখিনি।
পুরো চুলা খুঁজলাম। দুটোই আছে। তৃতীয় কোনো চুলা নেই।
কিন্তু এবার মনে হলো – হয়তো ওভেনের গ্যাস লাইন আলাদা। সেটা চেক করিনি।
ওভেন চেক করলাম। সেটাও বন্ধ।
কিন্তু মনে হলো – হয়তো মেইন লাইনে সমস্যা। পুরো বাড়িতে গ্যাস leak হচ্ছে।
এভাবে রাত ৩টা পর্যন্ত চলল। ২০ বার গিয়েছি রান্নাঘরে।
শেষে হ্যাপি জেগে উঠল। বলল, “কী হচ্ছে? কত বার যাচ্ছ?”
বললাম, “গ্যাস বন্ধ আছে কি না দেখছি।”
হ্যাপি গিয়ে একবার দেখে এসে বলল, “বন্ধ আছে।”
আমি বললাম, “তুমি কি নিশ্চিত?”
“হ্যাঁ, নিশ্চিত।”
কিন্তু আমার মন মানল না। মনে হলো – হ্যাপি ঠিকমতো দেখেনি। সে sleepy ছিল।
আবার যেতে চাইলাম। হ্যাপি বলল, “আর যেতে হবে না। আমি দেখেছি।”
কিন্তু হ্যাপির কথা বিশ্বাস হলো না। মনে হলো – সে বুঝতে পারেনি আমার concern কত গভীর।
রাত ৪টায় আবার গেলাম। চুপচাপ। হ্যাপিকে জাগাতে চাইলাম না।
এবার আমি discover করলাম নতুন একটা চিন্তা – হয়তো গ্যাস cylinder-এর সাথে connection loose। বন্ধ করলেও cylinder থেকে leak হচ্ছে।
Cylinder check করলাম। সব ঠিক।
কিন্তু মনে হলো – হয়তো cylinder-এ crack আছে। দেখা যাচ্ছে না।
Cylinder-এর পুরো body check করলাম। কোনো crack নেই।
এবার নতুন চিন্তা – হয়তো গ্যাস regulator faulty। সেটা randomly খুলে যায়।
Regulator পরীক্ষা করলাম। ঠিক কাজ করছে।
কিন্তু মনে হলো – হয়তো আমি test করার পদ্ধতি জানি না। হয়তো ভুল চেক করছি।
ইন্টারনেটে গেলাম। “How to check gas regulator” search দিলাম।
Videos দেখলাম। আমার method ঠিক ছিল।
কিন্তু মনে হলো – হয়তো আমাদের বাড়ির gas system অন্য ধরনের। Videos-এর মতো না।
আমাদের system নিয়ে research করতে লাগলাম।
এভাবে সূর্য উঠে গেল। আমি সারারাত জেগে গ্যাস নিয়ে চিন্তা করেছি।
সকালে অফিস যেতে হবে। কিন্তু মন বলছে – বাড়ি ছেড়ে গেলে গ্যাস leak করবে। আমি থাকলে control করতে পারব।
অফিসে গিয়েও মন থাকল গ্যাসে। প্রতি ১০ মিনিট অন্তর হ্যাপিকে ফোন করলাম – “গ্যাসের গন্ধ পাচ্ছ?”
হ্যাপি বিরক্ত হয়ে বলল, “না, কিছু নেই।”
কিন্তু আমার মনে হলো – হ্যাপি ভালো করে check করেনি। সে busy আছে।
দুপুরে বাড়ি এসে আবার check করলাম। সব ঠিক।
কিন্তু এবার নতুন চিন্তা – হয়তো পাশের বাড়ি থেকে গ্যাস leak হয়ে আমাদের বাড়িতে আসছে।
পাশের বাড়ির দিকে গেলাম…
এইভাবে চক্রটা চলতে থাকে। একটা চিন্তা থেকে আরেকটা চিন্তা। কোনো end নেই।
আমি জানি এটা অযৌক্তিক। কিন্তু থামাতে পারি না।
যেন আমার brain-এ একটা broken record player আছে। একই গান বারবার বাজছে।
আর আমি সেই গানের prisoner।
একটু ভাবনা রেখে যান