আমার মামা মারা গেলেন গত মাসে। তাঁর বয়স ছিল সাতাত্তর।
আমার বয়স ঊনচল্লিশ। মানে আরো আটাশ বছর বাঁচতে পারি।
২০২৫ + ২৮ = ২০৫৩।
আমার মৃত্যুর বছর। ২০৫৩।
এই হিসাবটা আমি রোজ করি। বিভিন্নভাবে।
আমার দাদা মারা গিয়েছিলেন পঁচাত্তর বছর বয়সে। সেই হিসাবে ২০৫১।
আমার বাবার বয়স এখন সত্তর। তিনি যদি আশি পর্যন্ত বাঁচেন, আমিও আশি পর্যন্ত বাঁচতে পারি। সেই হিসাবে ২০৫৬।
আমি ক্যালেন্ডার দেখি। ২০৫৩ সালে আরাশের বয়স হবে ঊনচল্লিশ। আমার এখনকার বয়স।
সেই সময় সে নিজেও তার মৃত্যুর তারিখ হিসাব করবে।
আমি ভাবি, ২০৫৩ সালে পৃথিবী কেমন হবে? আরাশের সন্তান হবে? আমি দাদু হব?
নাকি আমি থাকব না?
আমি গুগলে সার্চ করি। “average life expectancy Bangladesh male”।
দেখি ৭২ বছর।
তাহলে আমার আরো তেইশ বছর। ২০৪৮।
এই হিসাবটা আরো ভয়ানক।
আমি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গিয়ে Death Calculator ব্যবহার করি। আমার বয়স, ওজন, অভ্যাস বলি।
কিছু বলে ৭৫, কিছু বলে ৭৮।
আমি একটা নোটবুকে লিখে রাখি। বিভিন্ন হিসাব। বিভিন্ন তারিখ।
হ্যাপি দেখে ফেলে।
“তুমি কী লিখছ?”
“কিছু না।”
“এইগুলো তো সব তারিখ। ২০৫১, ২০৫৩…”
আমি নোটবুক বন্ধ করি।
“তুমি কি তোমার মৃত্যুর তারিখ হিসাব করছ?”
আমি উত্তর দিতে পারি না।
“এইসব করো কেন? এতে কী লাভ?”
আমি জানি না কী লাভ। কিন্তু করি।
হয়তো জানতে চাই কত দিন বাকি। কত দিনে কী করতে হবে।
হয়তো মৃত্যুকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা।
কিন্তু আসলে কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
মৃত্যু আসবে যখন আসার। আমার হিসাব মিলবে না।
তবুও আমি প্রতিদিন হিসাব করি।
ক্যালেন্ডারে মৃত্যুর তারিখ খোঁজি।
একটু ভাবনা রেখে যান