আরাশ অপারেশন থিয়েটারে। আমি বাইরে করিডোরে হাঁটছি।
এক ঘণ্টা হয়েছে। কোনো খবর নেই।
আমি নামাজ পড়িনি সকাল থেকে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার মন আল্লাহর কাছে।
“আল্লাহ, আরাশকে ঠিক রাখেন।”
আমি জানি না এই দোয়া কবুল হবে কিনা। কিন্তু আমার আর কিছু করার নেই।
করিডোরে আরো বাবা-মায়েরা হাঁটছেন। প্রত্যেকের মুখে একই চিন্তা।
আমি ভাবি, ক্ষমতা কার হাতে? টাকার? জ্ঞানের? নাকি আল্লাহর?
এই মুহূর্তে আমার সব টাকা, সব জ্ঞান অকেজো। আমি শুধু একজন অসহায় বাবা।
আমার মনে পড়ে আরাশের প্রথম হাঁটার কথা। প্রথম কথা বলার কথা। কত আনন্দ করেছিলাম।
আজ সেই আরাশ অপারেশন টেবিলে।
জীবন কত অনিশ্চিত।
আমি আরো প্রার্থনা করি।
“আল্লাহ, আরাশ সুস্থ হয়ে উঠুক। আমি আরো নেক কাজ করব। আরো নামাজ পড়ব। আরো দান করব।”
কিন্তু তারপরই মনে হয়, আমি কি আল্লাহর সাথে দরকষাকষি করছি?
আরাশের সুস্থতার বিনিময়ে আমি কিছু দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছি?
এটা কি ঠিক?
নাকি প্রার্থনা মানেই আত্মসমর্পণ? কোনো শর্ত ছাড়াই আল্লাহর ইচ্ছায় রাজি থাকা?
“আল্লাহ, আপনার যা ইচ্ছা তাই হোক। কিন্তু আরাশকে কষ্ট দেবেন না।”
ডাক্তার বের হয়ে এলেন।
“অপারেশন সফল। আরাশ ঠিক আছে।”
আমার হাঁটুতে যেন শক্তি নেই। আমি দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়াই।
“আল্লাহ, শুকরিয়া।”
এই মুহূর্তে আমি বুঝি, প্রার্থনা কোনো দরকষাকষি নয়। প্রার্থনা হচ্ছে নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করা।
আমি একজন বাবা। কিন্তু আমার ক্ষমতা সীমিত।
আমি আরাশকে খাওয়াতে পারি, পড়াতে পারি, ভালোবাসতে পারি।
কিন্তু তাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারি না।
এটা শুধু আল্লাহর হাতে।
আজকের পর আমি আর কখনো ভাববো না যে আমি আরাশের রক্ষক।
আল্লাহই একমাত্র রক্ষক।
একটু ভাবনা রেখে যান