গতকাল ফেসবুকে একটা পোস্ট দেখলাম। “গরিব বাচ্চাদের জন্য দান করুন। প্রতিটি টাকা পৌঁছে যাবে।” নিচে একটা এনজিওর নাম। সাথে গরিব শিশুদের ছবি।
আমার মনটা নরম হয়ে গেল। ১০০০ টাকা পাঠালাম। ভাবলাম কোনো বাচ্চার হয়তো খাওয়া জুটবে।
এক মাস পর একটা রিপোর্ট পেলাম। দেখলাম বছরে তারা ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু গরিব বাচ্চাদের জন্য খরচ মাত্র ২০ লাখ। বাকি টাকা কোথায় গেল?
অফিসে সহকর্মী করিমকে বললাম। করিম বলল, “ভাই, আমি এক এনজিওতে কাজ করতাম। দেখেছি সব খেলা।”
“কেমন খেলা?”
“বড় বড় গাড়ি, অফিস। কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়ি। সবকিছু ‘প্রশাসনিক খরচ’ এর নামে।”
আমার মাথায় বজ্র পড়ল। আমি যে ১০০০ টাকা দিয়েছিলাম, সেটাও কি কারো পকেটে গেল?
বাসায় ফিরে হ্যাপিকে বললাম। হ্যাপি বলল, “আজকাল দানও বিশ্বাস করে করা যায় না।”
আরাশ জিজ্ঞেস করল, “আব্বু, দান করা কি পাপ?” আমি বলতে পারলাম না যে, দান নয়, দানের নামে প্রতারণা পাপ।
রাতে ইন্টারনেটে খোঁজ নিয়ে দেখি অনেক ভুয়া চ্যারিটির খবর। অনেকেই “ইয়াতিম”, “বিধবা” এর নাম করে টাকা তুলে বিলাসবহুল জীবন কাটায়।
একটা ভিডিওতে দেখলাম এক এনজিও কর্মকর্তা বলছেন, “আমরা তো শুধু মানুষের দান সংগ্রহ করি। সেবা করার দায়িত্ব সরকারের।”
মনে প্রশ্ন জাগে – যারা আল্লাহর নামে, গরিবের নামে টাকা নেয়, তারা জানে না যে এর হিসেব দিতে হবে?
বাবা বলতেন, “গরিবের হক মেরে খেলে পেটে আগুন জ্বলে।” আজ দেখি অনেকের পেটে আগুনের বদলে মহিষের মাংস।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবি। আমি কিভাবে দান করব? কাকে বিশ্বাস করব? নাকি সরাসরি গরিবের হাতে দিতে হবে?
একটা অসহায় বুড়ির কথা মনে পড়ে। রাস্তায় দেখেছিলাম। তার হাতে দিলে অন্তত জানি যে সেটা তার পেটে যাবে।
কিন্তু তাহলে বড় বড় দানের কী হবে? স্কুল-হাসপাতাল বানানোর জন্য তো অনেক টাকা লাগে।
আমি কি সঠিক পথ খুঁজে পাব? নাকি দানেও এখন ধোঁকা আছে?
একটু ভাবনা রেখে যান