ব্লগ

দুই পাল্লার দাঁড়িপাল্লা

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

বাম পাল্লা: ক্যারিয়ার
ওজন: অজানা

ডান পাল্লা: পারিবারিক সুখ
ওজন: অজানা

প্রশ্ন: কোন পাল্লা ভারী?


পাল্লা ১: ক্যারিয়ার

রাখছি:

মোট ওজন: ৩৫ কেজি


পাল্লা ২: পারিবারিক সুখ

রাখছি:

মোট ওজন: ৪২ কেজি


ফলাফল: পরিবার জিতেছে।

কিন্তু আমি কী করেছি? ক্যারিয়ার বেছে নিয়েছি।

কেন?


পুনর্মূল্যায়ন

ক্যারিয়ারে যোগ করছি:

নতুন মোট: ৫৩ কেজি

পারিবারিক সুখ থেকে বিয়োগ:

নতুন মোট: ২৭ কেজি


নতুন ফলাফল: ক্যারিয়ার জিতেছে।

কিন্তু কেন মন খারাপ?


তৃতীয় গণনা

লুকানো ওজনগুলো:

ক্যারিয়ার পাল্লায়:

পারিবারিক সুখের পাল্লায়:


চূড়ান্ত হিসাব:

ক্যারিয়ার: ৫ৃ-২১ = ৩২ কেজি পরিবার: ২৭+৩০ = ৫৭ কেজি

পরিবার জিতল আবার।


বাস্তবের দাঁড়িপাল্লা

সকাল ৮টা: অফিসে যেতে হবে। আরাশ বলল, “বাবা, আজ আমার খেলা।”
আমার উত্তর: “সন্ধ্যায় দেখব।”

দাঁড়িপাল্লা: ক্যারিয়ার ভারী।

সন্ধ্যা ৬টা: অফিস শেষ। আরাশের খেলা শেষ।
আরাশের কথা: “বাবা, তুমি দেখনি।”

দাঁড়িপাল্লা: পরিবার ভারী হয়ে গেল।


প্রতিদিনের সমীকরণ

সোমবার: প্রমোশনের জন্য দেরি করে অফিস।
ক্ষতি: হ্যাপির সাথে রাতের খাবার।

মঙ্গলবার: আরাশের পিটিএম-এ যাই।
ক্ষতি: একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং।

বুধবার: অফিসের প্রজেক্ট শেষ করি।
ক্ষতি: আরাশের হোমওয়ার্ক দেখা।

বৃহস্পতিবার: পরিবারের সাথে সিনেমা।
ক্ষতি: কাল সকালের প্রেজেন্টেশনের প্রস্তুতি।


সমাধানের খোঁজ

নতুন দাঁড়িপাল্লা বানাই:

একটি পাল্লা নয়, দুটি আলাদা দাঁড়িপাল্লা।

দাঁড়িপাল্লা ১: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা = ক্যারিয়ার
দাঁড়িপাল্লা ২: সন্ধ্যা ৫টা থেকে সকাল ৯টা = পরিবার

কিন্তু সমস্যা: দুটি সময় overlap করে।


আসল সমস্যা

দাঁড়িপাল্লার যন্ত্রটাই ভুল।

ক্যারিয়ার আর পরিবার দুটি আলাদা পাল্লায় থাকতে পারে না।

দুটিই একসাথে থাকতে হয়। Balance করতে হয়।

কিন্তু perfect balance অসম্ভব।

কখনো একটু এদিক, কখনো একটু ওদিক।


শেষ সিদ্ধান্ত

আমি দাঁড়িপাল্লা ভেঙে ফেলব।

পরিবার আর ক্যারিয়ার আলাদা জিনিস নয়।

দুটোই আমার জীবনের অংশ।

দুটোই দরকার। দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন নিয়ম: প্রতিটি সিদ্ধান্তে দুটোকেই বিবেচনা করব।
কোনোটাকে সম্পূর্ণ বাদ দেব না।

এই হচ্ছে জীবনের কঠিন পছন্দের সহজ সমাধান:
পছন্দ না করে balance করা।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *