ঢাকা শহরের এক ভিড়ভাট্টা রাস্তায় মানুষজন এক নারীর প্রতি বিচার ছুঁড়ে দিচ্ছে — কেউ ভিডিও করছে, কেউ তাকিয়ে আছে। কারও মুখ স্পষ্ট নয়, সবার চোখে একই অন্ধকার। ছবিটি প্রতীক — এক সমাজের, যেখানে সবাই মুখোশ পরে বেঁচে থাকে, আর কেউই সম্পূর্ণ নিষ্পাপ নয়।

কথা

মাগি

নভেম্বর ২০২৫ · 13 মিনিটে পড়া
শেয়ার
ঢাকা শহরের এক ভিড়ভাট্টা রাস্তায় মানুষজন এক নারীর প্রতি বিচার ছুঁড়ে দিচ্ছে — কেউ ভিডিও করছে, কেউ তাকিয়ে আছে। কারও মুখ স্পষ্ট নয়, সবার চোখে একই অন্ধকার। ছবিটি প্রতীক — এক সমাজের, যেখানে সবাই মুখোশ পরে বেঁচে থাকে, আর কেউই সম্পূর্ণ নিষ্পাপ নয়।
“পার্থক্য শুধু এটুকু—কে ধরা পড়েছে, আর কে এখনো পার পেয়ে গেছে।”

১.

শাকিল সেদিন সকালে বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। ঢাকা শহরের স্বাভাবিক ভোরবেলা। রিকশার ঘণ্টি, বাসের হর্ন, আর ফুটপাতের চায়ের দোকানে ভিড়। মোবাইলে নোটিফিকেশন এলো। একটা ভাইরাল ভিডিও। সবাই শেয়ার করছে।

ভিডিওটা খুলল শাকিল।

একটা মেয়ে। মাঝবয়সী। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে মানুষের ভিড়। কেউ গালাগাল দিচ্ছে। কেউ ধাক্কা দিচ্ছে। একজন লাঠি তুলে মারছে। আরেকজন চুল ধরে টানছে। বাকিরা মোবাইল তুলে রেকর্ড করছে।

মেয়েটা কাঁদছে। হাত জোড় করে কিছু বলার চেষ্টা করছে। কেউ শুনছে না।

“শালা! এইসব মানুষগুলোর কারণেই সমাজটা নষ্ট,” পাশের সিটে বসা সহকর্মী রফিক বলল। তার গলায় রাগ। চোখে ঘৃণা।

শাকিল চুপ করে রইল। ভিডিও বন্ধ করে দিল। কিছু বলল না।

রফিককে সে চেনে। খুব ভালো করেই চেনে। গত সপ্তাহে অফিসের নতুন ইন্টার্ন—মিতু—তাকে নিয়ে হোটেলে গিয়েছিল রফিক। বউকে বলেছিল ক্লায়েন্ট মিটিং আছে রাতে। শাকিল জানে। কারণ রফিক সেদিন তাকে ফোন করে বলেছিল, “ভাই, বউ যদি কল করে, বলে দিস আমি তোর সাথে মিটিংয়ে আছি।”

শাকিল বলে দিয়েছিল।

২.

দুপুরবেলা অফিসের ক্যান্টিনে বসে লাঞ্চ খাচ্ছিল সবাই। টেবিলে টেবিলে একই আলোচনা। ভাইরাল ভিডিও।

মার্কেটিং হেড জহির সাহেব মাথা নেড়ে বললেন, “এদেশে নৈতিকতা বলে কিছু নেই। একদম নেই। এসব মানুষদের কারণেই সমাজটা দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

তার চোখে ছিল এক ধরনের তৃপ্তি। যেন সে একটা মহান সত্য উচ্চারণ করেছে। যেন এই বলাটাই তাকে পবিত্র করে দিয়েছে। তার মনে হচ্ছিল—আজ সে নৈতিকতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছে।

কিন্তু তার মনের গভীরে ছিল ভয়। একটা অস্পষ্ট, কুয়াশাচ্ছন্ন ভয়। যদি কেউ জানে? যদি কেউ দেখে ফেলে? যদি কেউ ভিডিও করে?

প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে তার অফিসে ‘বিশেষ মিটিং’ হয়। সেই মিটিংয়ে শুধু তরুণী সহকর্মীরা ডাক পায়। মিটিংয়ে কোনো নোটস হয় না। কোনো এজেন্ডা থাকে না। শুধু থাকে একটা নীরব চুক্তি। তুমি যদি আসো, তোমার প্রমোশন হবে। যদি না আসো, তোমার চাকরি যাবে।

গত মাসে একটা মেয়ে—রুমানা—মিটিংয়ে যেতে অস্বীকার করেছিল। পরের সপ্তাহেই তার চাকরি গেছে। অজুহাত ছিল ‘পারফরম্যান্স ইস্যু’।

জহির সাহেব নিজেকে বলেন—এটা তো অন্যায় না। মেয়েগুলো নিজেই রাজি হয়ে আসে। কেউ তো জোর করছি না। এটা তো একটা… বোঝাপড়া।

তার মনে হয়—সে তো ভালো মানুষ। সংসারী মানুষ। মসজিদে নামাজও পড়ে মাঝে মাঝে। এটা তো ছোটখাটো ব্যাপার। এতে এত বাড়াবাড়ি করার কী আছে?

কিন্তু আজ যখন সে ভিডিওর মেয়েটার নিন্দা করছে, তখন তার মনে হচ্ছে—সে একজন ভালো মানুষ। একজন নৈতিক মানুষ। কারণ অন্যের পাপ দেখাটা নিজের পাপ ঢাকার সবচেয়ে সহজ উপায়।

শাকিলের হাসি পেল। মুখে আনল না।

“স্যার একদম ঠিক বলেছেন,” পাশের টেবিল থেকে শামীম বলল। “এসব নষ্ট মানুষগুলো শুধু টাকার পিছনে ছুটে। কোনো লজ্জা-শরম নেই।”

শামীমের গলায় ছিল প্রচণ্ড ঘৃণা। কিন্তু সেই ঘৃণার পিছনে লুকিয়ে ছিল স্বস্তি। একটা অদ্ভুত, অসুস্থ স্বস্তি।

সে ভাবছে—যতক্ষণ মানুষ অন্যদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, ততক্ষণ তারা তার দিকে তাকাবে না। যতক্ষণ অন্য কেউ ধরা পড়বে, ততক্ষণ সে নিরাপদ।

প্রতি সন্ধ্যায় অফিস ছুটির পর শামীম গুলশানের সেই ‘স্পা অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারে’ যায়। বাসায় বলে অফিসে দেরি হবে। বউ কিছু জিজ্ঞেস করে না।

সেন্টারে ঢোকার সময় চারপাশে তাকায় শামীম। কেউ দেখছে কিনা। মোবাইল বন্ধ করে রাখে। কোনো ট্রেস যাতে না থাকে।

কিন্তু আজ যখন সে ভিডিওর মেয়েটার বিচার করছে, তখন তার মনে হচ্ছে—সে তো আলাদা। তার কাজটা তো ভিন্ন। সে তো কাউকে ক্ষতি করছে না। এটা তো একটা… সেবা নিচ্ছে মাত্র।

তার মনে পড়ে—গত সপ্তাহে সেন্টারে ঢুকতে গিয়ে হঠাৎ শাকিলকে দেখে ফেলেছিল। দুজনের চোখাচোখি হয়েছিল। দুজনই দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল।

পরের দিন অফিসে দুজনের স্বাভাবিক কথা হয়েছিল। কেউ ওই রাতের কথা তোলেনি। একটা নীরব চুক্তি হয়ে গিয়েছিল—তুমি আমার গোপন রাখবে, আমি তোমার।

শামীম জানে—এই অফিসে আরও অনেকে যায় সেই জায়গায়। কিন্তু কেউ কাউকে চেনে না। সবাই অচেনা সাজে। কারণ এটাই নিরাপদ।

আজ যখন সে ভিডিওটা শেয়ার করেছে তার টাইমলাইনে, তখন তার মনে হয়েছে—সে একটা ভালো কাজ করেছে। মানুষকে সচেতন করেছে। সমাজকে রক্ষা করেছে।

কিন্তু তার অবচেতনে কাজ করছে অন্য কিছু। একটা প্রক্ষেপণ। নিজের অপরাধবোধকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।

৩.

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে শাকিল দেখল তার বউ তাসনিয়াও ভিডিওটা দেখছে। বসার ঘরের সোফায় বসে। মোবাইল হাতে।

“দেখেছ? কী লজ্জার ব্যাপার!” তাসনিয়া বলল। তার গলায় ঘৃণা। “মেয়েটার বাপ-মা কেমন মানুষ গড়েছে! এত বড় হয়ে কোনো লজ্জা-শরম নেই।”

তাসনিয়ার মনে কাজ করছিল একটা জটিল আবেগ। তিনি নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে দেখতে চান। একজন সংস্কারশীল, নৈতিক নারী।

যখন তিনি অন্য একজন নারীকে ‘পতিত’ দেখেন, তখন তার মনে হয়—তিনি তো তার থেকে ভালো। তিনি তো এমন করেননি। তিনি তো সম্মানের সাথে আছেন।

এই তুলনাটা তাকে নিরাপত্তা দেয়। আত্মবিশ্বাস দেয়।

কিন্তু তাসনিয়া ভুলে যান—পাঁচ বছর আগে, বিয়ের আগে, তার একটা সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কে অনেক কিছু হয়েছিল। কিন্তু কেউ জানে না। শাকিলও জানে না।

তাসনিয়া নিজেও ভুলে গেছেন। কারণ মানুষ নিজের অতীত মুছে ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন সেই অতীত লজ্জার।

আজ যখন তিনি ভিডিওর মেয়েটার বিচার করছেন, তখন তার মনে হচ্ছে—তিনি সবসময় এমনই ছিলেন। নিষ্পাপ। পবিত্র। সম্মানের।

শাকিল কিচেনে গিয়ে পানি খেল। এসে সোফায় বসল। কিছু বলল না।

তাসনিয়া জানে না, তিন বছর আগে শাকিল একবার ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে গিয়েছিল। অফিসের এক সহকর্মী—নাদিরা। দুজনে মিলে গুলশানের একটা হোটেলে গিয়েছিল। বিকেল বেলা। তাসনিয়াকে বলেছিল অফিসে জরুরি কাজ আছে।

হোটেলের লবিতে বসে ছিল। রুম নেওয়ার জন্য। হঠাৎ দূর থেকে তাসনিয়ার এক কাজিনকে দেখে ফেলল শাকিল। কাজিন তাকে দেখেনি। কিন্তু শাকিল দেখেছিল।

সেদিন রুম নেয়নি। নাদিরাকে বলেছিল, “আজ না। আরেকদিন।”

আরেকদিন আর হয়নি। নাদিরা বুঝে গিয়েছিল। দুজনের মধ্যে একটা অস্বস্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিছুদিন পর নাদিরা চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল।

শাকিল জানে—সে বেঁচে গিয়েছিল। দশ সেকেন্ড দেরি হলে কাজিন তাকে দেখে ফেলত। তারপর কী হতো?

হয়তো আজ তার ভিডিও ভাইরাল হতো। হয়তো আজ মানুষ তাকে নিয়ে আলোচনা করত। হয়তো আজ রফিক, জহির সাহেব, শামীম—সবাই তার বিচার করত।

পার্থক্য শুধু দশ সেকেন্ডের।

“তুমি কিছু বলছ না কেন?” তাসনিয়া জিজ্ঞেস করল।

শাকিল টিভির দিকে তাকিয়ে ছিল। “কী বলব?”

“এই মানুষগুলো এত বেহায়া কেন? কোনো সংস্কার নেই?”

শাকিল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “তুমি কি মনে কর শুধু একজনই এমন?”

তাসনিয়া ভুরু কুঁচকাল। “মানে?”

“মানে হলো, যে লাঠি তুলেছিল ভিডিওতে, যারা গালাগাল দিচ্ছিল, যারা মোবাইল তুলে রেকর্ড করছিল, যারা শেয়ার করছে—এরা কি সবাই নিষ্পাপ?”

“তুমি ঠিক কী বলতে চাইছ?”

শাকিল তাসনিয়ার দিকে তাকাল। “আমি বলতে চাইছি… এদেশে সবাই একই কাজ করে। পার্থক্য শুধু এটুকু—কে ধরা পড়েছে, আর কে এখনো পার পেয়ে গেছে।”

তাসনিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “তুমি ওই মেয়েটার পক্ষ নিচ্ছ?”

“আমি কারো পক্ষ নিচ্ছি না। আমি শুধু বলছি—যারা বিচার করছে, তাদের নিজেদের দিকে তাকানো উচিত।”

তাসনিয়া আর কিছু বলল না। মোবাইলে আবার ভিডিও দেখতে লাগল।

কিন্তু তার মনের ভিতরে একটা অস্বস্তি তৈরি হলো। শাকিলের কথাগুলো তাকে নাড়া দিল। তিনি নিজের অতীতের দিকে তাকালেন। তারপর দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিলেন।

কারণ সেখানে তাকানো ভয়ের। সেখানে লজ্জা আছে। সেখানে এমন কিছু আছে যা তিনি ভুলে থাকতে চান।

৪.

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শাকিল আবার ভিডিওটা দেখল। শব্দ বন্ধ করে। পাশে তাসনিয়া ঘুমিয়ে গেছে।

ভিডিওটা ধীরে ধীরে দেখল শাকিল।

লাঠি তোলা লোকটার মুখ জুম করল। চোখে ক্রোধ। মুখে ঘৃণা।

এই লোকটা কে?

হয়তো সে একজন সরকারি কর্মকর্তা। প্রতিদিন ঘুষ খায়। প্রতিদিন মানুষের ফাইল আটকে রাখে। টাকা না দিলে কাজ করে না।

কিন্তু আজ সে বিচারক। আজ সে পবিত্র। আজ সে ন্যায়ের প্রতীক।

কারণ তার পাপ গোপন। আর এই মেয়েটার পাপ প্রকাশ্য।

শাকিল আরেকজনের দিকে তাকাল। যে মোবাইল তুলে ভিডিও করছে। তার চোখে উত্তেজনা। ঠোঁটে হাসি।

এই লোকটা কে?

হয়তো সে একজন ব্যবসায়ী। প্রতিদিন ভেজাল মাল বিক্রি করে। প্রতিদিন মানুষকে ঠকায়। ওজনে কম দেয়। দামে বেশি নেয়।

কিন্তু আজ সে সাংবাদিক। আজ সে সত্যের খোঁজে। আজ সে সমাজকে দেখাচ্ছে—দেখো, এই হলো পাপী।

কারণ অন্যের পাপ দেখানো মানে নিজের পাপ লুকানো।

শাকিল আরও একজনের দিকে তাকাল। যে মেয়েটার চুল ধরে টানছে। একজন মধ্যবয়সী মহিলা।

এই মহিলা কে?

হয়তো তিনি একজন শিক্ষিকা। স্কুলে প্রাইভেট পড়ান। যারা প্রাইভেট পড়ে না, তাদের ক্লাসে কম নম্বর দেন। যারা ঈদে, পূজায় উপহার দেয়, তাদের বেশি নম্বর দেন।

কিন্তু আজ তিনি নৈতিকতার রক্ষক। আজ তিনি মেয়েটাকে শিখিয়ে দিচ্ছেন—এভাবে চলে না।

কারণ অন্যকে শাস্তি দেওয়া মানে নিজেকে নিষ্পাপ প্রমাণ করা।

শাকিল ভাবল—এই মানুষগুলো কি জানে? তারা কি বোঝে?

তারা বোঝে।

তারা খুব ভালো করেই বোঝে। কিন্তু বুঝে না বোঝার ভান করে। কারণ সেটাই নিরাপদ। সেটাই আরামদায়ক।

যখন মানুষের বিশ্বাস আর কাজ মেলে না, তখন মানুষ হয় তার বিশ্বাস বদলায়, নয়তো তার কাজ লুকায়।

এই মানুষগুলো কাজ লুকিয়েছে। বিশ্বাস রেখে দিয়েছে। কারণ বিশ্বাস প্রকাশ্য, কাজ গোপন।

আর যখন কেউ ধরা পড়ে, তখন বাকিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ এটা তাদের নিজেদের লুকানোর সুযোগ।

যতক্ষণ তারা অন্যকে আক্রমণ করবে, ততক্ষণ কেউ তাদের দিকে তাকাবে না।

শাকিল মোবাইল বন্ধ করল। অন্ধকারে শুয়ে রইল। বুকের ভিতরটা ভারী লাগছিল।

কারণ সে জানে—সে নিজেও এই ভিড়ের একজন। সে নিজেও লাঠি তুলত, যদি তার হাতে লাঠি থাকত। সে নিজেও ভিডিও করত, যদি তার হাতে মোবাইল থাকত।

পার্থক্য শুধু এটুকু—সে সেখানে ছিল না।

কিন্তু সে সেই বাসে ছিল, যেখানে রফিক বসে ছিল। সে সেই ক্যান্টিনে ছিল, যেখানে জহির সাহেব বসে ছিলেন। সে সেই সমাজে আছে, যেখানে শামীম আছে।

এবং সে চুপ করে ছিল। কিছু বলেনি। কোনো প্রতিবাদ করেনি।

কারণ প্রতিবাদ করা মানে নিজের দিকে আঙুল তোলা। নিজের মুখোশ খুলে ফেলা।

শাকিল জানে—সে বেঁচে গিয়েছে। শুধু সৌভাগ্যের কারণে। শুধু কাকতালীয়ভাবে।

কিন্তু এই সৌভাগ্য চিরকাল থাকবে তো?

৫.

পরদিন সকালে অফিসে ঢুকতেই শাকিল দেখল সবাই আবার মোবাইলে তাকিয়ে আছে। আরেকটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

আরেকজন। আরেক জায়গা। আরেক রাস্তা। আরেক ভিড়।

একই দৃশ্য। একই ক্রোধ। একই বিচার।

রফিক বলল, “দেশটা একদম শেষ হয়ে গেছে।”

তার গলায় ছিল একটা স্বস্তি। একটা নিশ্চিন্ততা। কারণ আজও সে ধরা পড়েনি। আজও সে নিরাপদ।

জহির সাহেব বললেন, “সংস্কৃতি বলে কিছু নেই।”

তার চোখে ছিল একটা তৃপ্তি। কারণ আজও তার ‘বিশেষ মিটিং’ চলছে। কেউ প্রশ্ন করছে না। কেউ সন্দেহ করছে না।

শামীম বলল, “এসব মানুষগুলো সমাজের কলঙ্ক।”

তার মুখে ছিল একটা হাসি। কারণ আজও তার গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ। আজও কেউ তাকে চেনে না।

শাকিল তার ডেস্কে বসল। কম্পিউটার চালু করল। কিছু বলল না।

কারণ সে এখন বুঝে গেছে।

এই দেশে সবাই মুখোশ পরে। কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ রঙিন। কিন্তু মুখোশের নিচে সবার মুখ একই রকম। সবার চোখে একই অন্ধকার। সবার হাতে একই দাগ।

পার্থক্য শুধু এটুকু: কার মুখোশ এখনো মুখে লেগে আছে, আর কার খসে পড়েছে।

আত্মসমালোচনা দ্বৈত-মানসিকতা নৈতিকতা সমাজ-বাস্তবতা সামাজিক-সমালোচনা

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

জীবন

সময়

অক্টোবর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া

জীবন

গান

অক্টোবর ২০২৫ · 11 মিনিটে পড়া

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *