জীবন

ভাড়াটে: আমি কি শরীর, নাকি শরীরের ভেতরের কেউ?

সেপ্টেম্বর ২০২৫ · 9 মিনিটে পড়া
শেয়ার
গভীর জঙ্গলে গাছের ডালে ঝুলে থাকা একটি স্বচ্ছ এবং খালি শুঁয়োপোকার খোসার (Cocoon) ছবি, যা শরীর এবং তাতে থাকা ভাড়াটে চেতনার মনস্তাত্ত্বিক রূপককে ফুটিয়ে তোলে।
খোসা পড়ে থাকে, কিন্তু ভেতরের ‘আমি’ উড়ে যায়; শরীর কি শুধুই একটা অস্থায়ী কাঠামো, যেখানে আমরা কিছুদিনের জন্য ভাড়া থাকি?

ভাড়াটে

তুমি এই শরীরে থাকো। কিন্তু এই শরীর তুমি না।


রাত দুটো

রাত দুটোয় চোখ খুলল।

শ্বাস নিতে পারছি না। বুকে কে যেন চাপ দিয়ে আছে।

হাত রাখলাম বুকে। স্পন্দন আছে। ধুক ধুক।

কিন্তু আমি কোথায়?


জ্বরের রাত

ছোটবেলায় জ্বর হলে উড়তাম।

শরীর বিছানায় পড়ে থাকত। আমি ছাদের কাছে ভাসছি। নিচে দেখতাম একটা ছেলে শুয়ে আছে।

জামা খুলে ফেললে যেমন হালকা লাগে, তেমন। শরীর একটা ভারী জামা। জ্বর হলে সেটা খুলে যেত।

তখন বুঝিনি এটা কী। এখনো বুঝি না।


আঙুল

রাতে শুয়ে আঙুল নাড়াই।

মনে মনে বলি — নাড়ো।

নড়ে।

কিন্তু কে নাড়াচ্ছে? আমি বললাম, মস্তিষ্ক শুনল, আঙুল নড়ল। এই তিনটার মধ্যে “আমি” কোনটা?

উত্তর নেই।


খাঁচা

প্রথম যাকে ভালো লেগেছিল, তার কাছে যেতে চেয়েছিলাম। পা নড়েনি।

মনে হয়েছিল ভেতরে একটা পাখি ডানা ঝাপটাচ্ছে। বেরোতে পারছে না।

তখন মনে হয়েছিল খাঁচাটা শরীর।

এখন মনে হয় খাঁচাটা আরো ভেতরে।


পিঠে ব্যথা

এক সপ্তাহ শুয়ে রইলাম।

মনে হলো ভাঙা গাড়িতে বসে আছি। যেতে চাই, গাড়ি চলছে না।

ছাদের দিকে তাকিয়ে ভাবলাম — শরীর না থাকলে কি ভালো হতো?

উত্তর পেলাম না। এখনো পাইনি।


ছেলের প্রশ্ন

একটা ছেলে জিজ্ঞেস করল — মরে গেলে কোথায় যায়?

চুপ করে রইলাম।

সে বলল — শরীর তো মাটিতে থাকে। তাহলে মানুষটা কোথায় যায়?

বললাম — জানি না।

সে বলল — আমার মনে হয় বাতাস হয়ে যায়।

আমি কিছু বললাম না। কারণ এই উত্তরটাই সবচেয়ে সৎ মনে হলো।


ঘুমের আগে

ঘুমানোর আগে শরীর ভারী হয়। ডুবে যায়। আমি হালকা হই।

শরীর বাড়ি। আমি ভাড়াটে।

কিন্তু সকালে সব মিশে যায়। শরীর আমি। আমি শরীর।

তাহলে রাতেরটা কী ছিল?


বারান্দায়

বারান্দায় বসে আছি। বাতাস লাগছে।

কে অনুভব করছে? চামড়া? নাকি চামড়ার ভেতরে কেউ?

কাছের মানুষ এসে জিজ্ঞেস করল — কী ভাবছ?

বললাম — বাতাস।

সে হাসল। বলল — অদ্ভুত।

সে জানে না এই প্রশ্নটা আমাকে রাতের পর রাত জাগিয়ে রাখে।


সবচেয়ে ভয়ানক সত্য

হয়তো কোনো “আমি” নেই।

শুধু শ্বাস আছে, স্পন্দন আছে, চিন্তা আছে। কিন্তু যে শ্বাস নিচ্ছে, যে ভাবছে — সে আলাদা কেউ না। সবটা মিলিয়েই ঘটছে।

কেউ নেই। শুধু ঘটনা।

এটা মানলে সব সহজ হয়।

কিন্তু মানতে পারি না। কারণ এই যে “আমি মানতে পারছি না” বলছি — সেই “আমি” তো কেউ।

নাকি সেটাও একটা চিন্তা মাত্র?


শেষে

একদিন শরীর থামবে।

তখন জানব কি — আমি শরীর ছিলাম, নাকি শরীরে কেউ ছিলাম।

কিন্তু তখন বলার কেউ থাকবে না।

এখন হাত দেখছি। আঙুল নাড়ছি।

এই হাত কার?

হাত উত্তর দেয় না। শুধু নড়ে।

অস্তিত্ব আত্মার মুক্তি আধ্যাত্মিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা দার্শনিক ভাবনা দেহ ও আত্মার সম্পর্ক পরিচয়

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

কথা

মুখোশ

অক্টোবর ২০২৫ · 8 মিনিটে পড়া

ঢাকার এক সাধারণ বারান্দায় গোধূলি বেলায় বসে থাকা এক ক্লান্ত মধ্যবিত্ত মানুষের বাস্তব আলোকচিত্র, যা আমাদের প্রাত্যহিক মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প, জীবনের বাস্তবতা এবং নীরব সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলে।

জীবন

দোলনা

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ · 11 মিনিটে পড়া

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *