ব্লগ

ডিজিটাল স্মৃতির ভার

নভেম্বর ২০২৫ · 5 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আজ সকালে হ্যাপি আমাকে দেখাল তার ফোনের গ্যালারি। হাজার হাজার ছবি। আরাশের ছোটবেলার ছবি, আমাদের বিয়ের ছবি, খাবারের ছবি, ফুলের গাছের ছবি।

“এত ছবি কেন তুলে রাখো?” জিজ্ঞেস করলাম।

“পরে দেখব,” বলল সে। “স্মৃতি হয়ে থাকবে।”

কিন্তু আমি লক্ষ করেছি – হ্যাপি কখনো এই ছবিগুলো দেখে না। তুলে রাখে, কিন্তু দেখে না।

আমিও তাই। যখন লেখালেখি করি, গুরুত্বপূর্ণ কোনো লাইন পেলে স্ক্রিনশট নিই। “পরে কাজে লাগবে” ভেবে। কিন্তু কখনো সেই স্ক্রিনশট খুলে দেখি না।

আমাদের ফোনে হাজারো স্ক্রিনশট জমা। কিন্তু আমাদের মাথায় কী জমা?

গতকাল আরাশ প্রশ্ন করল, “বাবা, তুমি কি আমার ছোটবেলার কথা মনে রাখো?”

আমি একটু ভেবে বললাম, “হ্যাঁ, মনে আছে।”

“কী মনে আছে?”

এই প্রশ্নে আমি থতমত খেয়ে গেলাম। আসলে কী মনে আছে? আরাশের জন্মের দিনের কথা মনে আছে, কিন্তু সেই দিনের details? সে প্রথম কবে হাঁটতে শিখেছে? প্রথম কী শব্দ বলেছে?

ফোনের গ্যালারিতে সব ছবি আছে। ভিডিও আছে। কিন্তু আমার মনে?

আমি বুঝলাম – আমরা ক্যামেরাকে আমাদের memory বানিয়ে ফেলেছি। ভেবেছি ডিভাইসে save করলেই save হয়ে গেল। কিন্তু আসলে আমরা ভুলে যাচ্ছি।

কেন এমন হয়?

একটা কারণ হতে পারে – যখন আমরা কোনো মুহূর্ত experience করি, তখন আমরা সেটা capture করতে ব্যস্ত থাকি। Live করি না।

আরাশের জন্মদিনে আমি কত ছবি তুলেছিলাম। কিন্তু আরাশের মুখের আনন্দটা কি ঠিকমতো দেখেছিলাম? তার হাসির শব্দটা কি ঠিকমতো শুনেছিলাম?

ক্যামেরার ভিউফাইন্ডার দিয়ে জীবন দেখলে জীবনটা একটা ছবি হয়ে যায়। বাস্তব থাকে না।

আর একটা কারণ – আমরা ভাবি স্ক্রিনশট নিলেই কাজ শেষ। তারপর আর পড়ি না, দেখি না, ভাবি না। কিন্তু মনে রাখার জন্য চর্চা লাগে। Repetition লাগে।

আমি লক্ষ করেছি, যেসব ঘটনার ছবি নেই, সেগুলো আরও ভালো মনে আছে। কারণ সেগুলো শুধু মনের ক্যামেরায় capture করেছি।

মায়ের শেষ দিনগুলোর কথা মনে আছে। হাসপাতালে তার সাথে শেষ কথোপকথন। কোনো ছবি নেই, কিন্তু সব কিছু crystal clear মনে আছে।

আমাদের পূর্বপুরুষরা ছবি তুলতে পারতেন না। কিন্তু তাঁরা গল্প বলতেন। বিস্তারিত বর্ণনা দিতেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মৃতি transfer করতেন। তাঁদের মনই ছিল তাঁদের archive।

আমরা external storage-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছি। আমাদের brain আর store করার চেষ্টা করে না। ভাবে, “যাহ, গুগল আছে তো। ফোন আছে তো।”

কিন্তু এখানে একটা ভয়ানক ব্যাপার আছে। External memory আছে কিন্তু emotional memory নেই।

আমি একটা text message-এর স্ক্রিনশট নিতে পারি। কিন্তু সেই message পড়ার সময় আমার মনে কী অনুভূতি হয়েছিল, সেটা কি capture করতে পারি?

হ্যাপির হাসির ছবি আছে হাজারো। কিন্তু সেই হাসি দেখে আমার বুকে যে warmth অনুভব হয়, সেটা কোনো ক্যামেরায় ধরা পড়ে না।

আরাশের সাথে বারান্দায় বসে রাস্তার মানুষ দেখার সেই নিরব মুহূর্তগুলো। এগুলোর কোনো ছবি নেই। কিন্তু এগুলোই আমার সবচেয়ে precious memory।

আমি ভাবি – আমরা কি content collect করছি নাকি memory create করছি?

স্ক্রিনশট হচ্ছে content। কিন্তু memory হচ্ছে emotion + experience + reflection।

যখন আমি কোনো সুন্দর quote পড়ি আর স্ক্রিনশট নিই, তখন আমি সেই quote-এর সাথে connect করি না। শুধু save করি।

কিন্তু যদি আমি সেই quote টি নিয়ে ভাবি, আমার জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখি, তাহলে সেটা আমার memory-র অংশ হয়ে যায়।

তাহলে সমাধান কী?

আমি এখন একটা নিয়ম করেছি। যখনই কোনো স্ক্রিনশট নিই, সেই মুহূর্তেই ভাবি – এটা আমার কেন গুরুত্বপূর্ণ? এটা আমার জীবনে কী impact করবে?

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা – মাঝে মাঝে ক্যামেরা বন্ধ রেখে শুধু experience করি। বিশেষ মুহূর্তগুলো শুধু মনের ক্যামেরায় capture করি।

কারণ সবচেয়ে ভালো photograph হচ্ছে যেটা আমাদের হৃদয়ে তোলা। সেটা কখনো delete হয় না। কখনো corrupt হয় না।

আর সবচেয়ে ভালো storage device হচ্ছে আমাদের soul। সেখানে feelings-এর সাথে facts জমা থাকে।

স্ক্রিনশট দিয়ে আমরা information save করি। কিন্তু memory দিয়ে আমরা life save করি।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *