ব্লগ

দোকান ভুলে যাওয়া মানুষ

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

হ্যাপি বলল, “বাজার করতে যাওয়া লাগবে।”

আমি বললাম, “অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দি।”

কত সহজ! ক্লিক করি, পরদিন এসে যায়।

কিন্তু যখন delivery boy এল, আমি লক্ষ্য করলাম—আমি কয়দিন বাইরে যাইনি।

কখন শেষবার দোকানদারের সাথে কথা বলেছি? কখন শেষবার দামাদামি করেছি? কখন শেষবার market এর ভিড়ে হেঁটেছি?

মনে পড়ে, আগে বাজার মানে একটা অভিজ্ঞতা ছিল। দোকানদার চিনত। “হায়দার ভাই, আজ কী লাগবে?” খোঁজখবর নিত।

এখন আমার কোনো দোকানদার নেই। শুধু “Your order is confirmed” message আছে।

আরাশ একদিন বলল, “বাবা, দোকান কী?”

আমি তাকে নিয়ে একটা দোকানে গেলাম। সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “এখানে কেন মানুষ আছে? অনলাইনে তো কেউ নেই।”

দোকানদার তার সাথে হাসিখুশি কথা বলল। চকলেট দিল। আরাশ খুশি হয়ে গেল।

ফিরতে পথে সে বলল, “দোকান মজার। আবার যাব।”

আমি বুঝলাম, আমি আরাশকে human interaction থেকে বঞ্চিত করছি।

অনলাইনে কিনলে আমি 5% cashback পাই। কিন্তু আমি যে social connection হারাচ্ছি, তার value কত?

Local grocery shop বন্ধ হয়ে গেছে। দোকানদার হাসান ভাই কোথায় গেছেন জানি না। ২০ বছর আমাদের পরিবারকে সেবা দিয়েছেন। এখন তার কোনো খবর নেই।

আমি convenient life choose করে human life lose করেছি।

Covid এর সময় সবাই বলল, “Online shopping হলো future.” কিন্তু কেউ বলেনি, “Social interaction হলো past.”

আমার shopping cart এ যা থাকে: Rice, Oil, Sugar, Salt।

কিন্তু local market এ যা থাকত: নতুন পণ্যের সাথে পরিচয়, দোকানদারের পরামর্শ, দামের তুলনা, এলাকার খবরাখবর।

আমি product কিনি না এখন। আমি service কিনি।

কিন্তু service মানে শুধু delivery নয়। Service মানে relationship।

“Free home delivery!” লেখা দেখে খুশি হই। কিন্তু ভাবি না, কী free দিচ্ছি।

আমি আমার mobility free দিচ্ছি। আমার social skill free দিচ্ছি। আমার community connection free দিচ্ছি।

এখন যখন বাইরে যাই, অস্বস্তি লাগে। মানুষের সাথে কথা বলতে ভুলে গেছি।

“Sir, আর কিছু লাগবে?” দোকানদার জিজ্ঞেস করলে আমি nervous হয়ে যাই। “না, থাক।” বলে চলে আসি।

আমি antisocial হয়ে গেছি। কিন্তু আমার fault না। System এর fault.

Convenience এর নামে আমরা connection হারিয়েছি।

Efficiency এর নামে আমরা humanity হারিয়েছি।

আমি এখন সপ্তাহে অন্তত একদিন physical shopping করি। ধীরে ধীরে। মানুষের সাথে কথা বলে।

এটা therapy। Social therapy।

কারণ আমি জানি, আমি যদি পুরোপুরি online হয়ে যাই, তাহলে আমি offline মানুষ থাকব না।

আমি একটা user হয়ে যাব। মানুষ হয়ে থাকব না।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *