ব্লগ

দোকানে বাকির লজ্জা

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

মুদি দোকানে ঢুকি। হ্যাপির দেওয়া তালিকা হাতে।

চাল—১ কেজি। ডাল—আধা কেজি। তেল—আধা লিটার। পেঁয়াজ—আধা কেজি।

দোকানদার সব দিয়ে বলে, “২৮০ টাকা।”

আমি পকেট চেক করি। ১৫০ টাকা।

আমার গলা শুকিয়ে যায়।

“ভাই, বাকিটা পরে দিয়ে দেব?”

দোকানদার আমাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখে।

“আপনার তো আগেও বাকি আছে। গত মাসের ৪৫০ টাকা।”

আমার মুখ লাল হয়ে যায়।

“সব মিলিয়ে ৭৩০ টাকা হয়ে যাবে। কবে দেবেন?”

পিছনে আরো কাস্টমার দাঁড়িয়েছে। সবাই শুনছে।

“পরশু সকালে দিয়ে দেব।”

“ঠিক আছে। কিন্তু এর পরে আর বাকি নেই।”

আমি মাথা নিচু করে পণ্যগুলো নিয়ে বের হয়ে আসি।

রাস্তায় হেঁটে যেতে যেতে ভাবি, আমি একজন শিক্ষিত মানুষ। চাকরি করি। তবুও দোকানে বাকি নিতে হয়?

আমার বাবা কখনো বাকি নিতেন না। তিনি বলতেন, “নগদে যা পার, তাই কিন।”

আমি তাঁর নীতি ভাঙছি।

এই বাকি নেওয়া আমার আত্মসম্মানে আঘাত করে।

কিন্তু আমার কোনো উপায় নেই।

বাড়িতে ফিরে হ্যাপি জিজ্ঞেস করে, “সব এনেছ?”

“হ্যাঁ। কিন্তু বাকি নিতে হয়েছে।”

হ্যাপি চুপ হয়ে যায়।

আমরা জানি এই বাকি শুধু টাকার সমস্যা নয়। এটা আমাদের মর্যাদার সমস্যা।

এলাকার সবাই জানে হায়দার সাহেব বাকি নেয়।

এই কথা আরাশের কানেও যাবে।

সে তার বন্ধুদের কাছে লজ্জা পাবে।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *