দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। শুধু একটা notebook কিনতে হবে। খুব সাধারণ ব্যাপার।
কিন্তু ভেতরে যেতে পারছি না।
দোকানদার আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে ভাবছে – “এই লোক কেন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে?”
আসলে তাকিয়ে আছে কি না জানি না। হয়তো তাকিয়েই নেই। কিন্তু মনে হচ্ছে তাকিয়ে আছে।
ভেতরে আরো কাস্টমার আছে। তারাও দেখবে আমাকে। ভাববে – “নতুন একজন এলো।”
আমি চাই না কেউ আমার দিকে তাকাক।
notebook তো সামনের সেলফেই আছে। ঢুকে নিয়ে টাকা দিয়ে বের হয়ে আসব। ২ মিনিটের কাজ।
কিন্তু সেই ২ মিনিটে কত কিছু হতে পারে।
দোকানদার জিজ্ঞেস করতে পারে – “কী লাগবে?” আমি হয়তো ভালো করে উত্তর দিতে পারব না। জড়িয়ে যাব।
অন্য কাস্টমার হয়তো ভাববে – “এই লোক কেন এত nervous?”
নিজের গলার আওয়াজ কেমন লাগবে? কেঁপে যাবে নাকি? খুব আস্তে হবে নাকি?
হাত কাঁপবে টাকা দেওয়ার সময়। সবাই দেখবে।
দোকানদার ভাববে – “এই কাস্টমার weird।”
একবার ঢুকি। তারপর আবার মনে হয় – এখনো সময় আছে। পরে আসব।
রাস্তায় একবার চক্কর দিয়ে আসি। হয়তো দোকানে কাস্টমার কমে যাবে।
ফিরে এসে দেখি আরো বেশি মানুষ। আরো কঠিন হয়ে গেছে।
মনে হয় – আজ আর না। কাল আসব।
কিন্তু notebook আজই লাগে। কাল মিটিং। লিখতে হবে।
অন্য দোকানে যাব? কিন্তু সেখানেও তো একই অবস্থা হবে।
অনলাইনে অর্ডার দেব? কিন্তু আজ ডেলিভারি হবে না।
এত সাধারণ একটা কাজ এত কঠিন কেন?
অন্যরা কীভাবে এত সহজে দোকানে ঢোকে? তাদের কি কোনো ভয় লাগে না?
আমি কি অস্বাভাবিক? অন্য মানুষদের তুলনায় ভিন্ন?
হয়তো আমার মধ্যে কোনো deficit আছে। যেটা normal মানুষদের নেই।
নাকি normal মানুষদের মধ্যে কোনো শক্তি আছে যেটা আমার নেই?
আবার দোকানের দিকে তাকাই। এখন আর কেউ নেই। দোকানদার একা।
এখনই chance। এখন যেতে হবে।
কিন্তু একা থাকা মানে সে আমার দিকে পুরো attention দেবে। আরো কঠিন।
ভিড়ে লুকিয়ে থাকা সহজ। একা দাঁড়ানো কঠিন।
গভীর শ্বাস নিলাম। ১… ২… ৩…
এক পা এগোলাম। দুই পা।
দোকানের threshold পার হলাম।
দোকানদার তাকাল। বলল, “কী লাগবে?”
আমার গলা শুকিয়ে গেছে। কিন্তু বললাম, “নোটবুক।”
“কোন ধরনের?”
প্রশ্নটা শুনে panic হয়ে গেলাম। আমি জানি না কোন ধরনের। আমি শুধু “নোটবুক” চেয়েছি।
“যে… যেকোনো।”
সে কয়েকটা দেখাল। আমি প্রথমটাই নিলাম। দাম জিজ্ঞেস করলাম না। যা বলবে তাই দেব।
“৫০ টাকা।”
টাকা দিলাম। হাত কাঁপছে, কিন্তু লুকানোর চেষ্টা করলাম।
“ব্যাগ লাগবে?”
“না।”
নোটবুক নিয়ে দ্রুত বের হয়ে এলাম।
বাইরে এসে মনে হলো – আমি একটা যুদ্ধ জিতেছি।
কিন্তু এত ছোট একটা যুদ্ধ জেতার জন্য এত কষ্ট কেন? এত শক্তি খরচ কেন?
অন্যদের কাছে এটা normal shopping। আমার কাছে এটা একটা achievement।
বাড়ি ফিরে নোটবুকটা দেখলাম। খুবই সাধারণ। কিছু বিশেষ নয়।
কিন্তু আমার কাছে এটা বিশেষ। কারণ আমি overcome করেছি।
আগামীকাল আবার কোথাও যেতে হলে আবার একই struggle।
কিন্তু আজকে প্রমাণ হয়েছে – আমি পারি।
এইটুকুই যথেষ্ট।
একটু ভাবনা রেখে যান