ব্লগ

ডোনেশনে নীরব যন্ত্রণা

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আরাশের ক্লাস টিচার সবার অভিভাবকদের ফোন করেছেন।

“স্কুলের নতুন কম্পিউটার ল্যাবের জন্য ডোনেশন চাই। প্রতি পরিবার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।”

আমার হাত কাঁপে।

পাঁচ হাজার টাকা? আমার দেড় মাসের সেভিংস?

“স্যার, এটা কি বাধ্যতামূলক?”

“না, স্বেচ্ছায়। কিন্তু সবাই দিচ্ছেন।”

স্বেচ্ছায়। কিন্তু না দিলে আরাশের অসম্মান।

“কবে দিতে হবে?”

“আগামী সপ্তাহের মধ্যে।”

ফোন রেখে আমি হিসাব করি। পাঁচ হাজার কোথা থেকে আনব?

আরাশ স্কুল থেকে ফিরে বলে, “বাবা, আমাদের ক্লাসে নতুন কম্পিউটার আসবে।”

“ভালো তো।”

“সবার বাবা-মারা টাকা দিচ্ছে। তুমিও দেবে?”

আমার গলা শুকিয়ে যায়।

“হ্যাঁ দেব।”

কিন্তু কোথা থেকে?

আমি হ্যাপিকে বলি। সে বলে, “আমার সোনার কানের দুল বিক্রি করি?”

আমার বুকে কাঁটা বিঁধে।

হ্যাপির শেষ গয়না। তার মায়ের দেওয়া।

কিন্তু উপায় নেই।

আরাশের সম্মান রক্ষার জন্য হ্যাপির দুল বিক্রি করতে হবে।

স্কুলে গিয়ে ডোনেশন দিই। অন্য অভিভাবকদের দেখি হাসিমুখে টাকা দিচ্ছেন।

আমার জন্য এটা আনন্দের বিষয় নয়। এটা যন্ত্রণার।

শিক্ষক বলেন, “ধন্যবাদ। আপনাদের সহযোগিতায় বাচ্চারা ভালো শিক্ষা পাবে।”

আমি হাসি।

কিন্তু ভিতরে ভিতরে কাঁদি।

আমার সন্তানের শিক্ষার জন্য আমার স্ত্রীর গয়না বিক্রি করতে হয়।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *