ব্লগ

দুই আয়নার মাঝে

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

সকাল ৬টা – আরাশের ঘর থেকে

“আমি বড় হয়ে গেছি। আমার নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে।”

সকাল ৬:১৫ – একই ঘর থেকে

“বাবা! আমার শার্টটা কোথায়? আমি কিছু খুঁজে পাই না!”


দুপুর ১টা – স্কুল থেকে ফোন

“বাবা, আমি বড়। আমার বন্ধুদের সাথে একা ঘুরতে যেতে পারি।”

দুপুর ১:৩০ – একই ফোন

“বাবা, আমার মাথাব্যথা। তুমি আমাকে নিতে এসো।”


সন্ধ্যা ৭টা – খাবার টেবিলে

আরাশ: “তোমরা কিছু বুঝো না। আমার নিজস্ব মতামত আছে।”

আমি: “কী মতামত?”

আরাশ: “সেটা… সেটা আমি এখনো ঠিক করিনি।”


রাত ৯টা – আরাশের ঘরে

আমি দেখি সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। নিজের মুখ দেখছে। এক মিনিট বড় মানুষের মতো serious expression। পরের মিনিট বাচ্চাদের মতো মুখ বিকৃত করছে।

“কী হয়েছে?”

“আমি দেখছি আমি কেমন দেখাচ্ছি।”

“কেন?”

“জানি না।”


আমার পর্যবেক্ষণ

বয়ঃসন্ধি একটা যুদ্ধ। দুই সত্তার যুদ্ধ। একটি বলে “আমি বড়”। আরেকটি বলে “আমি ছোট”।

সকালে সে একজন teenager. বিকেলে একটি child.

এই দোলাচলে সে নিজেই confused.


আরাশের গোপন ডায়েরি (আমি পড়েছি)

“আমি বুঝি না আমি কে। কখনো মনে হয় আমি সব পারি। কখনো মনে হয় আমি কিছুই পারি না। বাবা-মার কাছে কখনো বড় মানুষ মনে হতে চাই। আবার কখনো ছোট বাচ্চা হয়ে তাদের কোলে ঢুকে যেতে ইচ্ছে করে।”


হ্যাপির সাথে আলোচনা

“আরাশের সাথে কী করব? একদিন mature, পরের দিন immature.”

হ্যাপি: “তোমার কথা মনে আছে? তুমিও এমনই ছিলে।”

আমি মনে করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, আমিও এমনই ছিলাম।


বয়ঃসন্ধির গণিত

শরীর বড় হয় দ্রুত। মন বড় হয় ধীরে।

Hormones বাড়ে exponentially. Wisdom বাড়ে arithmetically.

ফলাফল = Confusion.


আরাশের শরীর

গত ছয় মাসে তিন ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। গলার স্বর ভাঙছে। মাঝে মাঝে চিকন, মাঝে মাঝে মোটা।

সে নিজেও অবাক। “বাবা, আমার কী হচ্ছে?”

“তুমি বড় হচ্ছো।”

“কিন্তু আমি তো ready না।”


আরাশের মন

একদিন philosophy নিয়ে কথা বলে। বলে, “জীবনের অর্থ কী?”

পরদিন cartoon দেখে হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা।

এই দুই extreme-এর মাঝে সে দোল খাচ্ছে।


School-এ আরাশ

Teacher বলেছেন, “আরাশ class-এ mature আচরণ করে। কিন্তু playground-এ বাচ্চাদের মতো খেলে।”

দুই জায়গায় দুই ব্যক্তিত্ব।

কোনটা আসল আরাশ?

হয়তো দুটোই।


আমার সিদ্ধান্ত

আমি patient হব। এই confusion-এর সময়টা pass করবে।

একদিন সে দুটো identity-কে blend করতে শিখবে।

তখন সে হয়ে উঠবে একটি complete adult.

কিন্তু এখন সে শুধু learning করছে।

Adult হওয়ার practice করছে।

কিছুদিন later তো, কিছুদিন sooner – এটাই natural.


রাতে ঘুমের আগে

আরাশের কপালে হাত রাখি। সে ঘুমিয়ে আছে। মুখটা peaceful.

ঘুমে সে আর confused নয়। সে শুধু আরাশ।

আমার ছেলে।

যে একদিন বড় হবে।

কিন্তু আজ রাতে সে শুধু আমার সন্তান।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *