ব্লগ

দুই যুগের সংলাপ

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আমার বিশ্বাস: কঠোর পরিশ্রম করলে সফল হওয়া যায়।

আরাশের বিশ্বাস: Smart work করলেই যথেষ্ট। YouTube দেখে সবকিছু শেখা যায়।


আমি বলি: “বই পড়তে হবে।”

আরাশ ভাবে: “Google-এ সব আছে। কেন বই?”

আমি ভাবি: এই ছেলে বুঝবে কীভাবে যে জ্ঞান শুধু তথ্য নয়?

আরাশ ভাবে: বাবা old-fashioned. Technology বোঝে না।


আমার শৈশব: খেলার সময় নির্দিষ্ট। পড়ার সময় আলাদা। বাবা-মার কথা মানতে হতো।

আরাশের শৈশব: সব সময় mobile, games, internet। বাবা-মার সাথে negotiate করে।


আমার স্বপ্ন (১১ বছর বয়সে): ডাক্তার হব। ইঞ্জিনিয়ার হব।

আরাশের স্বপ্ন (১১ বছর বয়সে): YouTuber হব। Gamer হব। Entrepreneur হব।


আমি শিখেছি: ধৈর্য, অধ্যবসায়, কষ্ট সহ্য করা।

আরাশ শিখছে: দ্রুততা, flexibility, problem-solving।

প্রশ্ন: কোনটা ভালো?


আমার সময়ে বন্ধুত্ব: সশরীরে দেখা। একসাথে খেলা। দীর্ঘ আড্ডা।

আরাশের বন্ধুত্ব: WhatsApp group। Online gaming। Virtual hangout।

আমি ভাবি: এই বন্ধুত্বে গভীরতা আছে?

আরাশ ভাবে: বাবার যুগে communication কত slow ছিল!


আমার ভয়: আরাশ বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত নয়।

আরাশের ভয়: বাবা আমাকে বুঝতে চায় না।


গতকাল ঝগড়া হলো:

আমি: “এত mobile চালাস কেন?”

আরাশ: “আমি শিখছি। তুমি বুঝবে না।”

আমি: “আমাদের সময়ে এসব ছিল না।”

আরাশ: “তাই তো তোমরা backward।”


রাতে ভাবি:

আমি কি wrong?

নাকি আরাশ wrong?

নাকি দুজনেই নিজের যুগের জন্য right?


আমার বাবার সাথে আমার ঝগড়া (২৫ বছর আগে):

বাবা: “এত ইংরেজি গান শোনস কেন?”

আমি: “আপনি বুঝবেন না।”

বাবা: “আমাদের সময়ে রবীন্দ্রসংগীত শুনতাম।”

আমি: “সেকেলে।”


চক্রাকার প্যাটার্ন:

আমার দাদু → আমার বাবাকে বুঝতেন না
আমার বাবা → আমাকে বুঝতেন না
আমি → আরাশকে বুঝি না
আরাশ → তার ছেলেকে বুঝবে না (ভবিষ্যতে)


তাহলে সমাধান কী?

আমার চেষ্টা: আরাশের জগতে ঢুকতে চেষ্টা করি।

আরাশের চেষ্টা: আমার কথা শোনার চেষ্টা করে।

কিন্তু দুজনেই আধাআধি successful।


আমি লক্ষ্য করি:

আরাশ যখন কষ্টে পড়ে, তখন আমার কাছেই আসে।

আমি যখন আরাশের মতামত চাই, সে ভালো suggestion দেয়।

মানে deep down আমরা একে অন্যকে বিশ্বাস করি।


কিন্তু surface-এ ঝগড়া:

Technology নিয়ে, lifestyle নিয়ে, values নিয়ে।

এই ঝগড়াগুলো কি জরুরি?

নাকি natural process?


আমার উপলব্ধি:

প্রজন্মের ব্যবধান অবশ্যম্भাবী।

প্রতিটি প্রজন্ম নিজের পৃথিবী তৈরি করে।

কিন্তু ভালোবাসার bridge থাকলে gap overcome করা যায়।


আজকের চেষ্টা:

আমি আরাশকে YouTube video বানাতে সাহায্য করলাম।

আরাশ আমাকে smartphone-এর নতুন feature শেখালো।

দুজনেই কিছু শিখলাম।


শেষ কথা:

সংঘাত থাকবে। এটা normal।

কিন্তু communication বন্ধ করা যাবে না।

প্রজন্মের gap পূরণ হবে না।

কিন্তু bridge বানানো যায়।

আর সেই bridge-এর নাম ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মান।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *