আজ বিকেলে আরাশের রিপোর্ট কার্ড দেখলাম। গণিতে A+, বিজ্ঞানে A+, ইংরেজিতে A। কিন্তু আধঘণ্টা পর দেখি সে দোকানে গিয়ে ভুল হিসাব করে ফিরে এসেছে। ২০০ টাকার জিনিস কিনে ৫০০ টাকা দিয়ে ২০০ টাকা ফেরত নিয়ে এসেছে।
“তুই তো গণিতে A+ পেয়েছিস?”
“হ্যাঁ বাবা। কিন্তু ওখানে তো formula আছে। এখানে মাথায় করতে হয়।”
আমার ভিতরে একটা অ্যাপ খুলে গেল যার নাম “শিক্ষার বিভ্রম ভার্সন বাস্তবতা”।
অফিসে নতুন এক ইন্টার্ন এসেছে। MBA করা, সব theory জানে। কিন্তু একটা সিমপল ইমেইল লিখতে পারে না। ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলতে ভয় পায়।
“তুমি তো বিজনেস কমিউনিকেশন পড়েছো?”
“হ্যাঁ স্যার। কিন্তু আসল মানুষের সাথে কথা বলা আলাদা ব্যাপার।”
হ্যাপির সাথে রাতে কথা বলছিলাম। “আরাশ স্কুলে প্রথম হয়, কিন্তু বাস্তব জীবনে basic জিনিসগুলো পারে না।”
“কী পারে না?”
“জানে না কীভাবে দামাদামি করতে হয়। জানে না বাজারে কোন জিনিস কত টাকা। জানে না কীভাবে মানুষের সাথে deal করতে হয়।”
হ্যাপি বলল, “হায়দার, আমি Home Science পড়েছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর বুঝলাম রান্না করা আলাদা science।”
আরাশকে বললাম, “তুই History পড়ে মুঘল সাম্রাজ্যের সব তারিখ জানিস। কিন্তু তোর নিজের পাড়ার ইতিহাস জানিস না।”
“জানার দরকার আছে বাবা?”
“আছে। কারণ সেটা তোর real life।”
পরদিন আরাশকে নিয়ে পাড়ার পুরনো মানুষদের সাথে কথা বললাম। তারা বলল এই এলাকা কেমন ছিল ৫০ বছর আগে। আরাশের চোখে বিস্ময়।
“বাবা, এটা তো স্কুলের History-র চেয়ে interesting!”
“কেন?”
“কারণ এটা আমার জায়গার গল্প। আমার সাথে connected।”
আমি বুঝলাম। স্কুলের জ্ঞান abstract, জীবনের জ্ঞান concrete।
নামাজ পড়ে ভাবছিলাম। কুরআনে বলা আছে জ্ঞান অর্জন করতে। কিন্তু কোন জ্ঞান? যেটা exam pass করার জন্য নাকি যেটা জীবনে কাজে লাগে?
আরাশকে বললাম, “তুই একটা পরীক্ষা করবি?”
“কেমন?”
“আগামী মাসের সব বাজারের কাজ তুই করবি। হিসাব রাখবি। দেখি তোর গণিত কেমন কাজে লাগে।”
এক মাস পর আরাশ এসে বলল, “বাবা, আমি এক মাসে যা শিখেছি, সেটা এক বছরের Math-এর চেয়ে বেশি কাজের।”
“কী শিখেছিস?”
“percentage, profit-loss, negotiation, market research। আর সবচেয়ে বড় কথা – মানুষকে judge করা।”
হ্যাপিও বলল, “আরাশ এখন বাজার থেকে ভালো জিনিস কিনতে পারে। আগে যা-তা কিনে আনত।”
আমি বুঝলাম স্কুলের জ্ঞান একটা base দেয়। কিন্তু জীবনের জ্ঞান সেই base-এর উপর practical skills build করে।
আরাশকে বললাম, “স্কুলের পড়া ছাড়বি না। কিন্তু জীবনের পড়াও চালু রাখবি।”
“দুটোই পড়ব?”
“হ্যাঁ। স্কুল তোর brain develop করবে। জীবন তোর common sense develop করবে। দুটোই লাগবে।”
আসল কথা হলো – স্কুল আমাদের শেখায় কী ভাবতে হবে। জীবন শেখায় কীভাবে ভাবতে হবে।
একটু ভাবনা রেখে যান