ব্লগ

দুই রাস্তার মোড়

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

রাস্তা ১: নিরাপদ পথ

সকাল ৭টায় উঠি। একই রুটিনে অফিস। একই ডেস্কে বসি। একই কাজ করি। সন্ধ্যায় বাড়ি। হ্যাপি-আরাশের সাথে খাওয়া। রাত ১০টায় ঘুম।

৩৫ বছর এই জীবন। পেনশন। সুখী অবসর।

এই পথে আমি জানি:

এই পথে আমি জানি না:


রাস্তা ২: দুঃসাহসিক পথ

চাকরি ছেড়ে দিই। নিজের ব্যবসা শুরু করি। লেখালেখি করি। নতুন জায়গায় যাই। নতুন মানুষের সাথে দেখা করি। প্রতিদিন অজানার মুখোমুখি।

হয়তো সফল। হয়তো ব্যর্থ। কিন্তু নিজের মতো।

এই পথে আমি জানি:

এই পথে আমি জানি না:


আমি দাঁড়িয়ে আছি মোড়ে।

বাম দিকে নিরাপত্তার পথ – চেনা, জানা, ভবিষ্যৎ নিশ্চিত। ডান দিকে দুঃসাহসের পথ – অচেনা, অজানা, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

কোন পথে যাব?


নিরাপত্তার পক্ষে যুক্তি:

আমার শুধু নিজের জীবন না। হ্যাপি আছে। আরাশ আছে। তাদের দায়িত্ব আছে আমার।

আমি যদি ঝুঁকি নিয়ে ব্যর্থ হই, তাহলে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আমার বয়স ৩৭। এখন আর experiment করার সময় নেই।

নিরাপদ জীবনও খারাপ নয়। অনেক মানুষ এই জীবনেই সুখী।


দুঃসাহসের পক্ষে যুক্তি:

আমি যদি এখনই ঝুঁকি না নিই, তাহলে আর কবে নেব?

৬০ বছর বয়সে আফসোস করব – “আহ! যদি একবার চেষ্টা করতাম!”

আরাশ কী শিখবে? যে বাবা নিরাপদ পথে চলেছে সারাজীবন?

নাকি যে বাবা স্বপ্নের জন্য লড়েছে?


হ্যাপিকে জিজ্ঞেস করেছি:

“তুমি কী চাও? নিরাপত্তা নাকি দুঃসাহসিকতা?”

সে বলেছে, “তুমি যা চাও।”

কিন্তু তার চোখে দেখেছি ভয়। পরিবর্তনের ভয়।


আরাশকে জিজ্ঞেস করেছি:

“তুমি কী চাও? আমি নিরাপদ থাকি নাকি ঝুঁকি নিই?”

সে বলেছে, “বাবা, তুমি খুশি থাকো।”

কিন্তু সে বোঝে না খুশি থাকার মূল্য কত।


আমি ভাবি:

নিরাপত্তা কি আসলেই নিরাপত্তা?

যে চাকরি আমার “নিরাপদ” মনে হয়, সেটা কি আসলেই চিরকাল থাকবে?

কোম্পানি বন্ধ হতে পারে। ছাঁটাই হতে পারে। অর্থনৈতিক মন্দা আসতে পারে।

তাহলে “নিরাপত্তা” কি একটা ভ্রম?


আবার ভাবি:

দুঃসাহসিকতাও তো ভয়ের কথা।

আমি ব্যর্থ হলে কী হবে?

পরিবার নিয়ে রাস্তায় বসব?

আরাশের লেখাপড়া বন্ধ হবে?

হ্যাপিকে চাকরি করতে হবে?


হয়তো সমাধান দুটোর মাঝামাঝি:

সম্পূর্ণ ঝুঁকি না নিয়ে ছোট ছোট ঝুঁকি নেওয়া।

চাকরি রেখে সাইড বিজনেস করা।

একেবারে পথ পরিবর্তন না করে ধীরে ধীরে পরিবর্তন।

কিন্তু সেটাও কি কাপুরুষতা?


শেষ প্রশ্ন:

আমি কী মরার সময় আফসোস করতে চাই?

“আহ! যদি নিরাপদে থাকতাম!”

নাকি

“আহ! যদি একবার সাহস করতাম!”

কোন আফসোস বেশি কষ্টকর?


আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি মোড়ে।

দুই রাস্তার মাঝখানে।

সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

হয়তো এই না-পারাটাই আমার সিদ্ধান্ত।

নিরাপত্তা আর দুঃসাহসের মাঝখানে একটা তৃতীয় পথ।

অপেক্ষার পথ।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *