বাম পা: স্বাধীনতার শিকল (সোনার তৈরি)
ডান পা: দায়বদ্ধতার শিকল (লোহার তৈরি)
আমি কোনদিকে হাঁটব?
সকাল ৬টা – জাগরণের মুহূর্ত
স্বাধীনতা বলে: “আজ ঘুমিয়ে থাকো। অফিস বাদ দাও।”
দায়বদ্ধতা বলে: “উঠো। হ্যাপি-আরাশ তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।”
আমি: দুই টানাপোড়েনে ছিঁড়ে যাচ্ছি।
সিদ্ধান্ত: উঠলাম। ডান পায়ের শিকল ভারী।
সকাল ৯টা – অফিসে
বস: “আজ রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ।”
স্বাধীনতা: “না বলো। তোমার নিজের জীবন আছে।”
দায়বদ্ধতা: “হ্যাঁ বলো। বেতন বাড়বে।”
আমি: “হ্যাঁ, স্যার।”
কারণ: আরাশের স্কুলের ফি দিতে হবে।
দুপুর ১টা – ফোনে বন্ধুর ডাক
মৃদুল: “চলো, কানাডা যাই। ভিসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।”
স্বাধীনতা: “যাও! নতুন জীবন শুরু করো।”
দায়বদ্ধতা: “থাকো। মা একা। হ্যাপির কী হবে?”
আমি: “ভেবে বলব।”
আসলে: ভাবতেই পারি না।
বিকাল ৪টা – আরাশের অনুরোধ
আরাশ: “বাবা, আমার খেলা দেখতে এসো।”
স্বাধীনতা: “অফিসের কাজ বাদ দিয়ে যাও।”
দায়বদ্ধতা: “কাজ শেষ করে যাও। দায়িত্ব আগে।”
আমি: কাজ শেষ করে গেলাম।
ফলাফল: খেলা শেষ হয়ে গেছে।
সন্ধ্যা ৭টা – স্ত্রীর প্রস্তাব
হ্যাপি: “চলো, দুজনে কোথাও ঘুরতে যাই।”
স্বাধীনতা: “যাও! রোমান্স ফিরিয়ে আনো।”
দায়বদ্ধতা: “টাকা বাঁচাও। ভবিষ্যতের জন্য জমাও।”
আমি: “পরে যাব। এখন টাকার টান।”
হ্যাপির মুখ: নিস্তেজ হয়ে গেল।
রাত ১০টা – একা সময়
স্বাধীনতা: “এই সময়টুকু তোমার। যা ইচ্ছা করো।”
দায়বদ্ধতা: “কালকের কাজ প্রস্তুত করো।”
আমি: টিভি চালু করলাম।
অবস্থা: দুটোর কোনোটাই করলাম না।
মধ্যরাতের আদালত
বিচারক: “তোমার জীবনে কোনটা বেশি – স্বাধীনতা নাকি দায়বদ্ধতা?”
আমি: “দায়বদ্ধতা।”
বিচারক: “খুশি আছো?”
আমি: “না।”
বিচারক: “তাহলে স্বাধীনতা চাও?”
আমি: “হ্যাঁ।”
বিচারক: “কিন্তু দায়বদ্ধতা ছাড়তে পারবে?”
আমি: “না।”
বিচারক: “কেন?”
আমি: “কারণ… কারণ আমি ভালোবাসি।”
শিকলের দর্শন
প্রশ্ন: যদি আমার কোনো দায়বদ্ধতা না থাকত?
উত্তর: আমি কানাডা চলে যেতাম।
প্রশ্ন: তাহলে কী হতো?
উত্তর: আমি মুক্ত হতাম।
প্রশ্ন: কিন্তু খুশি হতাম?
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: কেন জানো না?
উত্তর: কারণ আমার খুশি অন্যদের সাথে জড়িত।
দুই শিকলের সত্য
স্বাধীনতার শিকল:
- উজ্জ্বল, আকর্ষণীয়
- হালকা লাগে
- কিন্তু নিঃসঙ্গতার দিকে নিয়ে যায়
দায়বদ্ধতার শিকল:
- কালো, ভারী
- কষ্টকর
- কিন্তু ভালোবাসার দিকে নিয়ে যায়
আবিষ্কার: দুটোই শিকল। দুটোই জরুরি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
আমি দুই শিকল ভাঙার চেষ্টা করেছি।
ব্যর্থ হয়েছি।
তারপর বুঝেছি – এই শিকলগুলো ভাঙার জন্য নয়।
এগুলো balance করার জন্য।
কখনো একটু স্বাধীনতা, কখনো একটু দায়বদ্ধতা।
এই ভারসাম্যের নাম: পরিপূর্ণ জীবন।
পরিশিষ্ট
আজ সকালে আয়নার সামনে দেখলাম –
বাম পায়ের সোনার শিকল একটু আলগা হয়েছে। ডান পায়ের লোহার শিকল একটু মরিচা ধরেছে।
মানে, আমি শিখেছি কীভাবে দুটোর সাথেই বাঁচতে হয়।
এই শেখাটাই হয়তো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার অর্থ।
একটু ভাবনা রেখে যান